সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ০৯:৫৫ পিএম
১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিল স্থায়ীভাবে জুলে রিমে ট্রফির মালিকানা অর্জন করে। ফিফা আগে থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে কোনো দল তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে ট্রফিটি তাদের কাছে স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করা হবে। ফলে নতুন একটি বিশ্বকাপ ট্রফি তৈরির প্রয়োজন দেখা দেয়।
পুরোনো নকশা অনুসরণ না করে ফিফা নতুন ট্রফির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নকশা আহ্বান করে। মোট ৫৩টি প্রস্তাব জমা পড়ে। তবে সবার মধ্যে আলাদা ছিল ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগার নকশা। তিনি দুটি স্বর্ণালি মানবমূর্তিকে পৃথিবীর গোলক উঁচিয়ে ধরে থাকার একটি স্কেচ জমা দেন এবং নিজ হাতে তৈরি করা একটি প্রোটোটাইপের ছবিও পাঠান।
শেষ পর্যন্ত গাজ্জানিগার নকশাই বিজয়ী হয়। সেই নকশার ভিত্তিতেই তৈরি হয় বর্তমান ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, যা আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।
মৃত্যুর কয়েক বছর আগে ফিফা ডটকম-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজ্জানিগা বলেছিলেন, ‘রুক্ষ ভিত্তি থেকে উঠে আসা দুটি মানবমূর্তি বিজয়ের উচ্ছ্বাসকে প্রকাশ করে। ট্রফির ভিত্তিতে থাকা ম্যালাকাইট পাথরের সবুজ বৃত্তগুলো নকশার সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে। সবুজ রং ফুটবল মাঠের প্রতীক, আর ম্যালাকাইট নিজেও একটি মূল্যবান পাথর।’
তবে গাজ্জানিগার বিখ্যাত এই নকশা হয়তো চিরকাল ব্যবহৃত হবে না। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি প্রথম দল হিসেবে নতুন ট্রফিটি জয় করে এবং তাদের নাম ট্রফির ভিত্তিতে খোদাই করা হয়। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপজয়ী দলের নাম দুটি বৃত্তাকারে যুক্ত হতে থাকে।
বর্তমানে ট্রফির ভিত্তিতে আর মাত্র চারটি দলের নাম যুক্ত করার জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৮ সালের পর ফিফাকে নতুন একটি বিশ্বকাপ ট্রফি তৈরি করতে হতে পারে।
এদিকে গাজ্জানিগার সেই ঐতিহাসিক স্কেচ, যা প্রতিযোগিতায় জমা দেয়া হয়েছিল, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের রকফেলার সেন্টারে অবস্থিত ফিফার অস্থায়ী জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে।
আরটিভি/ এসকেডি