বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০৭:২২ পিএম
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার পর যুক্তরাষ্ট্রে পর্দা উঠবে গ্রেটেস্ট ‘শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের। এর আগে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে প্রথম আয়োজক দেশটি। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দেশটির কানসাস সিটিতে একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র বা কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। যা ইতোমধ্যে ‘বিশ্বকাপ জেল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে সম্ভাব্য বিপুল দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে এবং শহরের আটক ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটাতে এই মডুলার কারাগার নির্মাণ করা হবে।
স্থানীয় পর্যটন সংস্থা ভিজিট কেসির হিসাব অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার দর্শনার্থী কানসাস সিটি সফর করবেন।
তাই স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, বড় আকারের এই আন্তর্জাতিক আসরে ছোটখাটো অপরাধ, বিশৃঙ্খলা বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সামাল দিতে অতিরিক্ত আটক সুবিধার প্রয়োজন হবে। তাই সাময়িকভাবে ১০০ আসনের একটি জেল তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী জেল নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।
অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের মোট ছয়টি ম্যাচ আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচও রয়েছে। পাশাপাশি রাউন্ড অব ৩২ ও কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও এখানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো দলগুলো কানসাস সিটিতে বেস ক্যাম্প করবে।
শহরের সহকারী সিটি ম্যানেজার জেফ মার্টিন জানান, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এটি চালু করার লক্ষ্য ছিল, তবে সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগোয়নি। অন্যদিকে কাউন্সিলম্যান ওয়েস রজার্স বলেন, বিশ্বকাপের সময় শহরে অতিরিক্ত ভিড়, মদ্যপান এবং ছোটখাটো বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা থাকে—এ কারণেই একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনকারীরা এবং স্থানীয় কিছু মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা ইউএস ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-এর মাধ্যমে আটক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পারে।
সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই আটক কেন্দ্র মূলত ছোটখাটো অপরাধ ও পৌর আইন ভঙ্গের ঘটনাগুলো সামাল দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে, গুরুতর অপরাধের জন্য নয়। সমর্থকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ ইভেন্ট সফলভাবে আয়োজন করতে হলে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এমন প্রস্তুতি জরুরি।
আরটিভি/এসআর