images

খেলা / ফুটবল

৯০ মিনিটেই মিলিয়নিয়ার স্পেনকে রুখে দেওয়া কেপ ভার্দের গোলরক্ষক

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০৯:২৮ এএম

বিশ্ব ফুটবলে তার নাম খুব একটা পরিচিত ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অনুসারীও ছিল ৫০ হাজারের কম। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে এক অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর মাত্র ৯০ মিনিটেই বদলে যায় সবকিছু। কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, আর তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যাও এক লাফে ছাড়িয়ে গেছে ১০ লাখ।

স্পেনের মতো তারকাখচিত দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তাকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না। তবে ম্যাচ শেষে সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

ম্যাচজুড়ে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন ভোজিনিয়া। অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন কেপ ভার্দের রক্ষাকবচ। শুধু সেভই নয়, দুর্দান্ত পজিশনিং, নিখুঁত সিদ্ধান্ত এবং অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধিতে স্পেনের ফরোয়ার্ডদের জন্য গোলমুখ কার্যত বন্ধ করে দেন তিনি।

ভোজিনিয়ার দুর্ভেদ্য পারফরম্যান্সে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একপর্যায়ে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন। পরিকল্পনা ছিল ইয়ামালকে বিশ্রাম দেওয়ার, কিন্তু গোলের খোঁজে শেষ পর্যন্ত তাকে নামাতে হয়। তবুও ভোজিনিয়ার সামনে সফল হতে পারেননি ১৮ বছর বয়সী এই তারকা।

ম্যাচটি আরেকটি অনন্য রেকর্ডও উপহার দিয়েছে। বদলি হিসেবে মাঠে নামার সময় ইয়ামালের বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৪২ দিন, আর ভোজিনিয়ার ৪০ বছর ২২ দিন। দুজনের বয়সের পার্থক্য ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ ফুটবলারের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে।

মজার বিষয় হলো, ভোজিনিয়া ইয়ামালের বাবার চেয়েও প্রায় দুই বছরের বড়। বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার এই পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।

পরিসংখ্যানও ভোজিনিয়ার কীর্তির পক্ষে কথা বলছে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ৪০ বা তার বেশি বয়সী কোনো গোলরক্ষক এক ম্যাচে তার চেয়ে বেশি সেভ করেছেন মাত্র একজন প্যাট জেনিংস। তিনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজের ৪১তম জন্মদিনে করেছিলেন ১০টি সেভ।

ভোজিনিয়া ম্যাচে ৪২টি পাসের মধ্যে ২৯টি সফলভাবে সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দেন, যা ৬৯ শতাংশ সফলতার হার। এছাড়া তার লং বলের সফলতার হার ছিল ৪৩ শতাংশ। ম্যাচে তিনি ৩টি ডাইভিং সেভ এবং বক্সের ভেতর থেকে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থদের বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে থাকা ভোজিনিয়ার সেই দৃশ্য আবেগাপ্লুত করেছে দর্শকদেরও।

আরও পড়ুন
ANDY-LEWIS

বেস জাম্পিং দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বিশ্বখ্যাত অ্যাথলেট অ্যান্ডি লুইসের

মাত্র ৯০ মিনিটের এক অসাধারণ পারফরম্যান্সই ভোজিনিয়াকে এনে দিয়েছে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি, কোটি ভক্তের ভালোবাসা এবং ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় এক জায়গা।

আরটিভি/এসকে