মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০৯:১৫ পিএম
চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার সমর্থকরা।
সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল কিল-ঘুষি ও লাথি ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটে।
বিশ্বকাপের আমেজে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের মাঝে হঠাৎ এই মারামারি শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পর্যটকরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ।
৩ লাখ ৯৩ হাজার ফলোয়ারের জনপ্রিয় এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘ফুটবল অ্যাওয়ে ডেইজ’-এ এই সংঘর্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম বড় ধরনের ফ্যান-ভায়োলেন্স বা সমর্থক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্দেরাজো’ (ফিফা বা বড় টুর্নামেন্টের আগে পতাকা উড়িয়ে বিশাল গণজমায়েত) করার জন্য টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন। ফলে পুরো এলাকা নীল-সাদা পতাকায় ছেয়ে যায়।
একই সময়ে সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আলজেরিয়ার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের সঙ্গে ফ্রান্স এবং সেনেগালের কিছু সমর্থকও যোগ দেন। একপর্যায়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ইনফোবাই’ জানিয়েছে, দুই দেশের সমর্থকরা একে অপরকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর স্লোগান দিতে শুরু করেন। মৌখিক এই বাগবিতণ্ডা দ্রুতই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং রাস্তা জুড়ে শুরু হয় উন্মুক্ত মারামারি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং সাধারণ পথচারীরা ওপর থেকে ছুড়ে মারা বিভিন্ন বস্তু থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ি করছেন, আর কিছু মানুষ দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও এএস’ এই দৃশ্যকে একটি ‘উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এটিকে ‘বিশ্বকাপের প্রথম কুৎসিত ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে।
ইনফোবাই তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে, এই সংঘর্ষের আসল কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো ‘অফিসিয়াল সংস্করণ’ বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি এবং তাদের অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্বকাপের শুরুর দিনগুলোতে টাইমস স্কয়ার মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমর্থকদের একটি অনানুষ্ঠানিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। তবে এই ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
টাইমস স্কয়ারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এখন সবার নজর কর্তৃপক্ষ কীভাবে কানসাস সিটির ম্যাচের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং নিউইয়র্ক অঞ্চলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দুই দেশের সমর্থকদের কীভাবে সামাল দেয় তার ওপর।
আরটিভি/এসআর