বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ১১:৪৬ এএম
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আনচেলত্তির অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের সেই চেনা ভিনিকে দেখা গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে ৪ গোল ও ১ অ্যাসিস্টে রীতিমতো উড়ছে এই তারকা ফুটবলার। আর তাতেই বিশ্বকাপে জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে ব্রাজিলের।
অতীতে যেসব ব্রাজিলিয়ান তারকা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন, তাদের প্রায় সবাই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন। সেই তালিকায় এবার নিজের নাম লিখিয়েছেন ভিনিসিয়ুস।
উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার। গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর হাইতির বিপক্ষেও জালের দেখা পান। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে করেন জোড়া গোল। ফলে গ্রুপপর্ব শেষেই তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের হয়ে গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার কীর্তি এর আগে গড়েছিলেন মাত্র চারজন ফুটবলার। ১৯৭০ সালে জাইরজিনিও, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রোনালদো নাজারিও ও রিভালদো এই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছিলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই তিনটি আসরেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। তাই ভিনিসিয়ুসের বর্তমান ফর্মকে ঘিরে নতুন করে শিরোপা স্বপ্ন দেখছেন সেলেসাও সমর্থকেরা।
শুধু তিন ম্যাচে গোল করাই নয়, গ্রুপপর্ব শেষে চার গোল করার কীর্তিও খুব বেশি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের নেই। ভিনিসিয়ুস এখন এই তালিকার চতুর্থ সদস্য। তার আগে ১৯৭০ সালে জাইরজিনিও, ২০০২ সালে রোনালদো এবং ২০১৪ সালে নেইমার গ্রুপপর্বে চার গোল করেছিলেন।
১৯৭০ বিশ্বকাপে জাইরজিনিও চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন দুটি গোল। ইংল্যান্ড ও রোমানিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন একটি করে গোল। সেই আসরে ব্রাজিলের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার।
অন্যদিকে ২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো তুরস্ক ও চীনের বিপক্ষে একটি করে এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি গোল করেছিলেন। পরে পুরো টুর্নামেন্টে আট গোল করে গোল্ডেন বুটও জিতেছিলেন তিনি।
২০১৪ সালে নেইমারও গ্রুপপর্বে চার গোল করেছিলেন। ক্রোয়েশিয়া ও ক্যামেরুনের বিপক্ষে করেছিলেন দুটি করে গোল। তবে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে স্কোরশিটে নাম তুলতে পারেননি। পরে ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় আর গোল বাড়ানোর সুযোগ পাননি ব্রাজিলিয়ান তারকা।
এবার সেই পথেই এগোচ্ছেন ভিনিসিয়ুস। গ্রুপপর্ব শেষে চার গোল নিয়ে তিনি শুধু ব্রাজিলের আক্রমণের মূল ভরসাই নন, টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ফুটবলারও। সামনে নকআউট পর্ব।
সেখানে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে জাইরজিনিও, রোনালদো কিংবা নেইমারের পাশে নাম লেখানোর পাশাপাশি তাদের কিছু অর্জনও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
সবচেয়ে বড় কথা, ইতিহাসের এই পরিসংখ্যান ব্রাজিল সমর্থকদের নতুন আশার খোরাক জোগাচ্ছে। কারণ অতীতে গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই গোল করা ব্রাজিলিয়ান তারকাদের হাত ধরেই এসেছে বিশ্বকাপের শিরোপা।
এবার সেই ঐতিহাসিক ধারার নতুন মুখ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এখন দেখার বিষয়, তার পায়ের জাদু ব্রাজিলকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দিতে পারে কি না।
আরটিভি/এসআর