মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ০২:১১ পিএম
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ ২৪ বছরের এক অনন্য রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটাল ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল প্রত্যাবর্তনের নজির গড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের এই নাটকীয় জয় সেলেসাওদের শুধু কোয়ার্টার ফাইনালই নিশ্চিত করেনি, বরং নকআউট পর্বে গোল হজম করলেই হেরে যাওয়ার দীর্ঘদিনের অপবাদও ঘুচিয়েছে।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৯তম মিনিটে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। প্রথমার্ধ শেষে জাপান এগিয়ে থাকায় ২০০৬, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের হতাশাজনক স্মৃতি আবারও ফিরে আসতে শুরু করেছিল সমর্থকদের মনে। তবে বিরতির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির দারুণ কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক ফুটবলে খোলনলচে বদলে যায় ব্রাজিলের। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় এক অবিস্মরণীয় জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জেতার এক বিরল রেকর্ড গড়ল ব্রাজিল। এর আগে সর্বশেষ এমন কীর্তি তারা গড়েছিল ২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও রিভালদো ও রোনালদিনহোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল ব্রাজিল। কাকতালীয়ভাবে, সেই আসরেই নিজেদের শেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল তারা।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রতিপক্ষ আগে গোল করার পরও ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের সংখ্যা এখন ১৪। এর মধ্যে সাতটি এসেছে গ্রুপ পর্বে আর বাকি সাতটি নকআউট বা পরবর্তী ধাপের ম্যাচে। পরিসংখ্যান বলছে, শিরোপার মূল লড়াই অর্থাৎ নকআউট পর্বে এমন পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ জেতার নজির ফুটবল বিশ্বে অত্যন্ত বিরল। ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার মধ্যে দুটি এসেছে ফাইনালে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে, যা ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের আসরে দেখা গিয়েছিল।
তবে ২০০২ সালের পর থেকে নকআউট পর্বে প্রথম গোল হজম করা তিনটি ম্যাচেই মাঠ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১৪ সালে জার্মানি এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে শুরুতে গোল খেয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। সেই দীর্ঘ আক্ষেপ ও হতাশার অধ্যায় এবার শেষ হলো জাপানের বিপক্ষে এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে আইভরি কোস্ট ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। জাপানের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয় ব্রাজিলের মানসিক দৃঢ়তা ও চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্যকে প্রমাণ করেছে। ২৪ বছর পর নকআউটে এমন বিরল প্রত্যাবর্তনের পর বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল সমর্থকদের মনে এখন একটাই বিশ্বাস, ২০০২ সালের মতোই কি তবে এবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে হেক্সা মিশন পূর্ণ করবে সেলেসাওরা?
আরটিভি/এআর