images

খেলা

ধর্ষণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে খেলছেন যেসব ফুটবলার

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৩:২২ পিএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্তত পাঁচজন ফুটবলার ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন অথবা বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে জাপানের দুই খেলোয়াড়ও রয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন। কারণ, অভিযুক্তদের কেউ এখনও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি, আবার কারও বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান।

ফিফার বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার বিধান নেই। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেয় এবং খেলোয়াড় নির্বাচনের দায়িত্ব জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ওপর ছেড়ে দেয়। ফিফার নিজস্ব কোনো নিষেধাজ্ঞা, আদালতের আদেশ বা আইনি বাধা না থাকলে একজন খেলোয়াড় খেলার জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।

রায়ান মেন্ডেস (কেপ ভার্দে)

কেপ ভার্দে জাতীয় দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্ডেস-এর বিরুদ্ধে এক ব্রাজিলীয় নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নিউজিল্যান্ড পুলিশ তদন্ত করছে। মার্চে একটি প্রীতি ম্যাচ চলাকালে দলের হোটেলে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফিফা জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে চলমান তদন্ত নিয়ে তারা বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।

জুনিয়া ইতো (জাপান)

জুনিয়া ইতো ২০২৪ সালের শুরুতে ওসাকার একটি হোটেলে দুই নারীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের মুখে পড়েন। ওই সময় তাকে জাপানের এশিয়ান কাপ দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার মামলা করেন। একই বছরের আগস্টে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় জাপানের প্রসিকিউটররা উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কাইশু সানো (জাপান)

কাইশু সানো আইনি প্রক্রিয়া শেষে দোষী সাব্যস্ত হননি। পরে তিনি জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তার কর্মকাণ্ডে মানুষের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু বলেন, সানোর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার পর তিনি বিশ্বাস করেছেন যে খেলোয়াড়টি অনুতপ্ত। তাই তাকে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আশরাফ হাকিমি (মরক্কো)

আশরাফ হাকিমির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে ফ্রান্সে এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। মামলাটি খারিজের আবেদন প্রত্যাখ্যান করায় তাকে ফরাসি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর হাকিমির বাসায় গেলে তার সম্মতি ছাড়া যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ করা হয়। হাকিমি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং সত্য প্রকাশ পাবে বলে বিশ্বাস করেন।

থমাস পার্টি (ঘানা)

থমাস পার্টির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের সাতটি অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে কানাডা তাকে ভিসা না দেওয়ায় তিনি ঘানার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলতে পারেননি।

অভিযোগগুলো ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। একাধিক নারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। যুক্তরাজ্যে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফিফার অবস্থান

ফিফা জানিয়েছে, অসদাচরণের যেকোনো অভিযোগ তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলে বা আদালতে বিচারাধীন থাকলে, ফিফার স্বাধীন বিচারিক সংস্থা সাধারণত সে বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে না।

আরও পড়ুন
messi

এবার স্পাইডারম্যানের সঙ্গে মেসির ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

ফিফার নীতিমতে, আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা ফিফার নিজস্ব শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে স্বয়ংক্রিয় কোনো বাধা নেই। ফলে চলমান তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যেও সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেন।

আরটিভি/এসকে