বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৯:২৪ পিএম
আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিকে সম্মান জানাতে দেশটির নিউকুয়েন প্রদেশে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসির ভাস্কর্য উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বিশাল আকৃতির এই ভাস্কর্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২৬ মিটার উঁচু এবং প্রায় ৭০ টন ওজনের ভাস্কর্যটি কাট্রাল কো শহরের জাতীয় মহাসড়ক ২২ ও ম্যানুয়েল সাভিও সড়কের সংযোগস্থলে স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, এটি ভারতের ২১ মিটার উঁচু মেসি ভাস্কর্যের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসি ভাস্কর্য।
ভাস্কর্যটিতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি পরিহিত মেসিকে হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। তার দুই পায়ের মাঝখানে রাখা হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি এবং তিনি এক হাত আকাশের দিকে নির্দেশ করছেন।
ভাস্কর্যটির নির্মাতা ভাস্কর অ্যালদো বেরোইসা জানান, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তের আদলে মেসির হাতে ট্রফি তুলে ধরা হবে। তবে প্রায় ৭০ টন ওজনের স্টিল ও কংক্রিটের কাঠামোর ভারসাম্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ট্রফিটি মাটিতে স্থাপন করা হয়।
কিন্তু এই নকশাই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন কোণ থেকে ভাস্কর্যটি দেখলে সেটি অনিচ্ছাকৃতভাবে আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাজারো মন্তব্য, সমালোচনা এবং রসিকতা করছেন নেটিজেনরা।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এই কোণ থেকে দেখলে বিষয়টি বেশ অদ্ভুত লাগছে। আরেকজন মন্তব্য করেন, ভাস্কর্যটির পেছনে একটি দেয়াল তৈরি করা উচিত ছিল। কেউ কেউ আবার মেসির নামের সঙ্গে ইংরেজি Messy (অগোছালো) শব্দের মিল টেনে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন।
এদিকে ভাস্কর্যটির মুখাবয়ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক দর্শক। তাদের দাবি, মুখের আদল পুরোপুরি মেসির সঙ্গে মেলে না। তবে এসব সমালোচনার জবাবে ভাস্কর অ্যালদো বেরোইসা বলেন, মেসির মুখের অবয়ব যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি প্রায় তিন মাস সময় ব্যয় করেছেন।
যদিও ভাস্কর্যটি নিয়ে বিতর্ক থামেনি, তবুও এটি ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনার নতুন একটি দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আরটিভি/এসকে