রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:৪৭ পিএম
বাংলাদেশে ব্রাজিলের সমর্থকদের উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপ এলেই দেশের অলিগলি, ছাদ, চায়ের দোকান কিংবা বড় পর্দার সামনে হলুদ-সবুজের উৎসব শুরু হয়ে যায়। সেই আবেগ এবার পৌঁছে গেছে ব্রাজিল জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমেও।
শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বাংলাদেশি সমর্থকদের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের সমর্থকদের উদ্যাপনের ভিডিও খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছেছে, যা পুরো দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
ব্রুনো বলেন, আমরা জানি জাতীয় দল মানুষের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিল ও বাংলাদেশের সমর্থকদের উদ্যাপনের কিছু ভিডিও আমরা পেয়েছি, যা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। আমরা কয়েকজন খেলোয়াড় একসঙ্গে হয়ে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে একটি ভিডিওও পাঠিয়েছি।
নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার জানান, জাতীয় দলের জার্সিকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগই খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিজের ছোটবেলার বিশ্বকাপ স্মৃতিও ভাগ করে নিয়ে তিনি বলেন, শৈশবে আমরা বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে বসতাম, বারবিকিউ করতাম এবং জাতীয় দলকে সমর্থন করতাম। এখন আমরা চাই, সমর্থকদের মতো আমরাও ঐক্যবদ্ধ থাকি। আমাদের লক্ষ্য ইতিহাস গড়া এবং ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়া।
২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজিল। তাই এবারের আসরে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ঘিরে যেমন বিশাল প্রত্যাশা, তেমনি রয়েছে বাড়তি চাপও। সেই চাপের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের ভালোবাসা দলকে অনুপ্রাণিত করছে বলে মনে করছেন ব্রাজিলিয়ানরা।
বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য ব্রুনোর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়, তা বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে। এবার ব্রাজিল দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের মুখে সেই সমর্থনের স্বীকৃতি পাওয়ায় দেশের ব্রাজিলভক্তদের আনন্দ আরও বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।
তবে আবেগের বাইরে মাঠের লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না। শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ নরওয়ে, যাদের আক্রমণের প্রধান ভরসা আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের কোচ স্তালে সলবাকেনও স্বীকার করেছেন, কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও তার দল নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে চমক দেখানোর সুযোগ রয়েছে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির অন্যতম বড় পরিকল্পনা হবে হালান্ডকে নিষ্ক্রিয় রাখা। ব্রুনোর মতে, হালান্ডকে থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তার কাছে বলই পৌঁছাতে না দেওয়া। কারণ সুযোগ পেলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকারের।
তবে নরওয়ের শক্তি শুধু হালান্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ড যেমন খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তেমনি কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকেও নরওয়ে ভয়ংকর। ব্রুনো জানান, সেট-পিসে প্রতিপক্ষের হুমকি মোকাবিলায় পুরো সপ্তাহ ধরেই বিশেষ অনুশীলন করেছে ব্রাজিল।
একাদশ নির্বাচন নিয়েও কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আনচেলত্তি। চোট কাটিয়ে রাফিনিয়া অনুশীলনে ফিরলেও শুরু থেকেই মাঠে নামার মতো পুরোপুরি ফিট নন। ফলে তাকে বেঞ্চ থেকেই নামানো হতে পারে। অন্যদিকে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে লুকাস পাকেতা ছিটকে যাওয়ায় মাঝমাঠে নতুন সমন্বয় খুঁজতে হচ্ছে ব্রাজিলকে।
এমন পরিস্থিতিতে ব্রুনো গিমারায়েসের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। চলতি বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। জাপানের বিপক্ষে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। সেই সহায়তাসহ এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে চারটি গোলে অবদান রেখেছেন এই মিডফিল্ডার।
নরওয়েকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকো। তবে তার আগে ব্রাজিলের পুরো মনোযোগ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে। হালান্ড-ওডেগার্ডদের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করাই এখন সেলেসাওদের একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই অভিযানে বাংলাদেশের লাখো ব্রাজিল-সমর্থকের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসও যেন দূর নিউ জার্সিতে দলটির জন্য বাড়তি প্রেরণা হয়ে পৌঁছে গেছে।
আরটিভি/এমএইচজে