সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ১২:১৫ পিএম
মাঠে বল পায়ে নামলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। অসাধারণ গোল করার ক্ষমতা, শক্তি ও স্ট্যামিনার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই ফুটবলার। তবে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী ঘুমের অভ্যাস, যা সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হালান্ড ঘুমানোর সময় বিশেষ ধরনের মুখের টেপ (মাউথ টেপ) ব্যবহার করেন। একটি পডকাস্টে তিনি নিজেই জানান, ঘুমের সময় মুখ দিয়ে নয়, বরং নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া নিশ্চিত করতেই তিনি এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায় এই পদ্ধতিকে বলা হয় 'মাউথ টেপিং'। এর উদ্দেশ্য হলো ঘুমের সময় মুখ বন্ধ রেখে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে শরীরকে উৎসাহিত করা। হালান্ডের বিশ্বাস, ভালো পারফরম্যান্সের অন্যতম ভিত্তি হলো মানসম্মত ও গভীর ঘুম, আর নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া সেই ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
স্পোর্টস সায়েন্সের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে বাতাস প্রাকৃতিকভাবে পরিশোধিত, উষ্ণ ও আর্দ্র হয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে। এতে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে এবং মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাও কমতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও উল্লেখ করেন যে, মাউথ টেপিংয়ের উপকারিতা নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে যাদের নাক বন্ধ থাকে, শ্বাসকষ্ট, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্য কোনো শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়।
ঘুমের বিষয়ে হালান্ড আরও কয়েকটি নিয়ম মেনে চলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ব্লু-লাইট প্রতিরোধী চশমা ব্যবহার করেন, যাতে মোবাইল, টিভি বা কম্পিউটারের আলো ঘুমে প্রভাব না ফেলে। পাশাপাশি তিনি শোবার ঘরকে যতটা সম্ভব অন্ধকার, ঠান্ডা ও শান্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস এড়িয়ে চলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি, পর্যাপ্ত ঘুম, অন্ধকার ও নিরিবিলি পরিবেশ এবং ঘুমানোর আগে স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো—এসব অভ্যাসের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে, মাউথ টেপিংয়ের মতো পদ্ধতি অনুসরণের আগে অবশ্যই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
হালান্ডের এই ব্যতিক্রমী অভ্যাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করলেও, চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—কোনো নতুন স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত অভ্যাস গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরটিভি/এসকে