সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০১:১৭ পিএম
দুই পেনাল্টি, এক লাল কার্ড এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা এক লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। এক পর্যায়ে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও থমাস টুখেলের শিষ্যরা দুর্দান্ত লড়াই করে জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড ও ডেকলান রাইসের দ্রুত বিল্ডআপের পর বুকায়ো সাকার বাড়ানো বল হ্যারি কেইনকে অতিক্রম করে পৌঁছে যায় জুড বেলিংহ্যামের কাছে। দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।
মাত্র দুই মিনিট পর আবারও জ্বলে ওঠেন বেলিংহ্যাম। হ্যারি কেইনের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসনের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।
তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় মেক্সিকো। একটি ফ্রি-কিক থেকে প্রতিহত হওয়া বল ভলিতে জালে পাঠান জুলিয়ান কুইনোনেস। এরপর বিরতির আগে সমতাসূচক গোলের সুযোগ পেলেও রাউল হিমেনেসের শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জারেল কোয়ানসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড।
তবে একজন কম নিয়েও ৬০তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় ইউরোপের দলটি। বক্সের ভেতরে ফাউলের পর পাওয়া পেনাল্টি থেকে হ্যারি কেইন নির্ভুল শটে ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোল করেন।
হার না মানা মেক্সিকোও দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে। ৬৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে রাউল হিমেনেস গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন। এরপর একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে স্বাগতিকরা।
শেষ সময়ে মেক্সিকোর অবিরাম আক্রমণের মুখেও দৃঢ় থাকেন জর্ডান পিকফোর্ড। তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ, রক্ষণভাগের আত্মত্যাগী পারফরম্যান্স এবং সংগঠিত ডিফেন্সিভ খেলার সুবাদে আর সমতায় ফিরতে পারেনি মেক্সিকো।
ফলে রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে নিজেদের মাঠে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ ষোলোর বাধা টপকাতে পারেনি স্বাগতিক মেক্সিকো।
আরটিভি/এসকে