বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৩৯ পিএম
মহানাটকীয় এক ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত এবং ভিএআরের বিতর্কিত ব্যবহার। এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে মিশরের বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ে। ম্যাচে মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকোর দারুণ এক গোলে ব্যবধান ২-০ করেছিল মিশর। কিন্তু গোল উদযাপনের পর ভিএআরের হস্তক্ষেপে আগের একটি ফাউলের অভিযোগ তুলে গোলটি বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা।
ফুটবল বিশ্লেষক চ্যাডউইকের মতে, পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তার ভাষায়, মাঠের রেফারি যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ফাউল দেখেননি, সেখানে গোল হওয়ার পর অনেক পেছনের ঘটনা পর্যালোচনা করে গোল বাতিল করা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার ও বিশ্লেষক জেমি ক্যারাঘারও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত, অন্য কোনো দলের বিপক্ষে হলে এই গোল বাতিল করা হতো না। প্রিমিয়ার লিগ বা লা লিগায় এটি নিশ্চিতভাবেই গোল হিসেবে গণ্য হতো।”
সবচেয়ে কড়া মন্তব্য এসেছে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহোর কাছ থেকে। পর্তুগিজ এই কোচ ম্যাচের রেফারিংকে “দিনেদুপুরে ডাকাতি” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “গোল হওয়ার পর সেটি বাতিল করা লজ্জাজনক। যদি সত্যিই ফাউল হয়ে থাকে, তাহলে খেলা তখনই থামানো উচিত ছিল। গোল হওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদলানো গ্রহণযোগ্য নয়।”
অন্যদিকে, ফুটবল বিশ্লেষক আলী আল গার্নি মনে করেন, ডাকাতি শব্দটি হয়তো কঠোর, তবে ম্যাচের প্রায় সব ‘ফিফটি-ফিফটি’ সিদ্ধান্তই আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আর্জেন্টিনা যদি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকত, তাহলে কি ভিএআর একইভাবে অতীতের ঘটনা খুঁজে মিশরের গোল বাতিল করত? এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ম্যাচ শেষে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে মিশর ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ে ও তার সহকারী কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগে মিশরের বাতিল হওয়া গোল, সম্ভাব্য একটি পেনাল্টি না দেওয়া এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তাদের বিপক্ষে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন ফিফার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে মিশর। তবে এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারিং ও ভিএআরের ব্যবহার আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরটিভি/এসকে