শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৫৬ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর প্রভাব পড়ে অনেক ভক্তের ব্যক্তিগত আচরণেও। এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ২৩ বছর বয়সী কনটেন্ট নির্মাতা স্কাইলার মে।
চার মিলিয়নের বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা স্কাইলার জানান, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে পুরুষ ফুটবল সমর্থকদের কাছ থেকে তার কাছে ব্যক্তিগত কনটেন্টের অনুরোধ ও বার্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে তার মাসিক আয়েও প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত যোগ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্কাইলারের ভাষ্য, সমর্থকদের অনেকেই বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলের জার্সি পরে ভিডিও তৈরি, প্রতিপক্ষ দলকে নিয়ে মজার কনটেন্ট কিংবা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের ঘিরে বিশেষ ভিডিও বানানোর অনুরোধ করেন। কেউ কেউ আবার বিশ্বাস করেন, ম্যাচের আগে তার তৈরি ব্যক্তিগত ভিডিও দেখলে তাদের প্রিয় দলের সৌভাগ্য বাড়ে।
তিনি আরও জানান, অনেক সমর্থক তাকে নির্দিষ্ট দলের জার্সি, মোজা বা শর্টস পরে দলের স্লোগান বলতে কিংবা ম্যাচের প্রস্তুতির অভিনয় করতে বলেন। এমনকি কোন খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করতে হবে বা কাকে এড়িয়ে যেতে হবে—এসব বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা দেন অনেকে।
স্কাইলারের মতে, ফুটবল অনেক মানুষের পরিচয় ও আবেগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বকাপের সময় সেই আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং ব্যক্তিগত আচরণেও তার প্রভাব দেখা যায়।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের কাছ থেকেও নিয়মিত অনুরোধ পান। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইংলিশ সমর্থকদের মধ্যে কুসংস্কারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। কেউ একই মোজা বা অন্তর্বাস পরে ম্যাচ দেখাকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করেন, আবার কেউ বিশেষ খাবার খাওয়া বা দাড়ি না কাটার মতো বিশ্বাসও লালন করেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের তিনি তুলনামূলক ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, তারা প্রতিপক্ষকে নিয়ে কম মন্তব্য করে নিজেদের দলকে উৎসাহ দিতেই বেশি আগ্রহী।
স্কাইলারের ধারণা, এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির মানুষের আগ্রহও বেড়েছে। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বকাপের আবহে থাকার কারণে অনেক সমর্থকের আবেগ, উদযাপন ও ব্যক্তিগত অনুভূতিতেও এর প্রভাব পড়ে।
আরটিভি/এসকে