সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৯ এএম
ফুটবল ম্যাচে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো খেলোয়াড় বোতল থেকে এক চুমুক পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলি করার পর তা গিলে না ফেলে মাঠেই ফেলে দেন। অনেকেই বিষয়টিকে পানি অপচয় মনে করলেও, বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি বিশেষ কৌশল।
এই পদ্ধতির নাম 'কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স'। এতে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে পরে তা ফেলে দেওয়া হয়। শুধু ফুটবলারই নন, সাইক্লিস্ট, ম্যারাথন দৌড়বিদসহ দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার পরিশ্রম করা অনেক ক্রীড়াবিদ এই কৌশল ব্যবহার করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মুখের ভেতরে এমন কিছু রিসেপ্টর রয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। মুখে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় রাখলে সেই সংকেত দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এতে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে এমন ধারণা করে যে শরীরে নতুন শক্তির জোগান আসছে।
ফলে খেলোয়াড়ের মনোযোগ, সতর্কতা ও কর্মক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যদিও পানীয়টি শরীরে প্রবেশ করে না।
ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের বিরতির সময় খুবই সীমিত। এ সময় বেশি পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক পান করলে পেট ভারী লাগতে পারে কিংবা দৌড়ানোর সময় অস্বস্তি হতে পারে। অন্যদিকে পানীয় গিলে ফেললে তা হজম হয়ে শরীরে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগে।
কিন্তু মুখে কয়েক সেকেন্ড কুলি করলেই মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় সংকেত দ্রুত পৌঁছে যায়। তাই অনেক খেলোয়াড় এই পদ্ধতিকেই বেশি কার্যকর মনে করেন।
যদিও এই কৌশল বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে, ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সময় এটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে ম্যাচ চলাকালে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একেবারেই নয়। কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে পারে না। ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত পানি বা ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতেই হয়।
সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে, বিরতির সময়, ম্যাচ শেষে এবং গরম আবহাওয়ায় নির্ধারিত হাইড্রেশন ব্রেকের সময় ফুটবলাররা পর্যাপ্ত পানি পান করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি মূলত দীর্ঘ সময়ের উচ্চমাত্রার ব্যায়াম বা প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার জন্য কার্যকর। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজ বা হালকা ব্যায়ামের ক্ষেত্রে এর তেমন কোনো প্রয়োজন নেই।
অতএব, মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক নিয়ে কুলি করে ফেলে দিতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি পানি অপচয় নয়; বরং পারফরম্যান্স বাড়াতে ব্যবহৃত ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি কার্যকর কৌশল।
সূত্র: সেইস ডটকম
আরটিভি/এসকে