সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০২:১২ পিএম
বিশ্বকাপে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। এবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফার ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশোধনের নিয়ম। এই নিয়মের প্রথম প্রয়োগেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে।
ঘটনার শুরু আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখানোর মাধ্যমে। ম্যাচের এক পর্যায়ে এমবোলোকে ফাউল করার অভিযোগে পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো পারেদেসকে সতর্ক করেন। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ভিএআরের সহায়তায় ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়।
ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, পারেদেসের সঙ্গে এমবোলোর কোনো শারীরিক সংস্পর্শই হয়নি। বরং ফাউল আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজেই পড়ে যান সুইস ফরোয়ার্ড। এরপরই কার্যকর হয় ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়ম।
ভিএআরের পরামর্শে রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয় এবং সিমুলেশন বা ডাইভ দেওয়ার দায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয় এমবোলোকে। তবে ম্যাচে এর আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইজারল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ডকে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে কাঁদতেই মাঠ ত্যাগ করেন এমবোলো।
ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় রেফারি ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দিলে ভিএআর সেই সিদ্ধান্ত সংশোধনের জন্য হস্তক্ষেপ করতে পারে। বিশেষ করে ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। এমনকি একই ঘটনায় ভিন্ন দুই দলের খেলোয়াড় জড়িত থাকলেও ভুল শাস্তি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
সাবেক সিলেক্ট গ্রুপ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিসও বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, রেফারি শুরুতে ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখিয়েছিলেন বলেই ভিএআরের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়। আর রেফারিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করায় শেষ পর্যন্ত এমবোলোকেই শাস্তি পেতে হয়েছে।
তবে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও সামনে এসেছে। যদি শুরুতেই পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখানো না হতো, তাহলে শুধু এমবোলোর ডাইভ দেওয়ার ঘটনা পর্যালোচনার জন্য ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারত না। অর্থাৎ রেফারির প্রাথমিক ভুল সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত এমবোলোর বিরুদ্ধে ভিএআর পর্যালোচনার পথ খুলে দেয়।
এদিকে এমবোলোর লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড শিবির। অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও কোচ মুরাত ইয়াকিনের দাবি, এই সিদ্ধান্ত ম্যাচে তাদের বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে এবং দলকে কার্যত লড়াই থেকে ছিটকে দিয়েছে। যদিও ঘটনাটি কেন শাস্তিযোগ্য নয়, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন নিয়ম নিয়ে বিতর্ক আগেও ছিল। তবে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়ম প্রয়োগের মাধ্যমে প্রথমবার কোনো ফুটবলার লাল কার্ড দেখার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দিয়েছে, ভিএআরের যুগে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা কখনো কখনো উল্টো নিজের দলের জন্যই বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
আরটিভি/এসকে