দুই দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি। ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও বহুবার দেখা গেছে তার। তবে অবাক করার মতো হলেও সত্যি, বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে কখনোই মাঠে নামা হয়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আর এই ম্যাচ দিয়েই প্রথমবার বিশ্বকাপে ইংলিশদের বিপক্ষে খেলবেন মেসি।
ক্লাব ফুটবলে ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মেসির পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। ৩৫ ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল। বিশেষ করে ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে তার চার গোলের পারফরম্যান্স এখনো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় রাত হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ম্যাচ শেষে আর্সেনালের তৎকালীন কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার মেসিকে "প্লে স্টেশনের খেলোয়াড়" বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
তবে জাতীয় দলের ক্ষেত্রে গল্পটা একেবারেই ভিন্ন। ২০০৫ সালে জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে খেলার সুযোগ থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে থাকতে পারেননি মেসি। আন্তর্জাতিক অভিষেকে হাঙ্গেরির বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ৪৭ সেকেন্ডের মধ্যে লাল কার্ড দেখেছিলেন তিনি। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম সম্ভাব্য ম্যাচটি হাতছাড়া হয়। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।
এরপর দীর্ঘ সময় দুই দলের দেখা না হওয়ার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সূচির পরিবর্তন। উয়েফা নেশনস লিগ চালুর পর ইউরোপীয় দলগুলোর জন্য অন্য মহাদেশের দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ কমে যায়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নিয়মিত দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকায় ইংল্যান্ডের সঙ্গে আর ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হয়নি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল এখনো ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দুই দলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০২ সালে, যেখানে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টির গোলে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড।
এদিকে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বাণিজ্যিক মূল্যও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হয় আয়োজকদের। আর সেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মেসি, যার উপস্থিতিই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে মেসিকে না খেলানোকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা তৈরি হলেও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পালন করেছে। একই সময়ে সংস্থাটির কিছু আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্তের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে তদন্ত মানেই কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে এমনটি নয় বলে জানিয়েছে এএফএ।
এসব বিতর্কের বাইরে এখন সব আলোচনার কেন্দ্র বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মেসি এবারের টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে ৮ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ২ গোল।
ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে বহু স্মরণীয় রাত উপহার দেওয়া মেসির সামনে এবার নতুন চ্যালেঞ্জ ইংল্যান্ডের জাতীয় দল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এই বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ ঘিরে তাই ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।
আরটিভি/এসকে



