সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০২:৪২ পিএম
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহারণের আগে কথার লড়াইয়েও পিছিয়ে নেই দুই শিবির।
ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার ও চেলসি কিংবদন্তি জো কোল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, লিওনেল মেসিকে থামিয়েই ফাইনালে উঠবে ইংল্যান্ড।
নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের এক আলোচনায় গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার ও মিকা রিচার্ডসের সঙ্গে সেমিফাইনাল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোল বলেন, ঠিক আছে, তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেব। হ্যাঁ, শতভাগ।
কোলের এমন মন্তব্য শুনে অনুষ্ঠানের অন্য অতিথিরা তাকে সতর্ক করে দেন। তারা বলেন, যদি মেসি সেমিফাইনালে নিজের জাদু দেখান, তাহলে এই মন্তব্যই পরে কোলের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে সতর্কবার্তায় থামেননি সাবেক এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। বরং আরও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমি এখনই বলছি আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠব।
অন্যদিকে সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস মনে করেন, আর্জেন্টিনাকে হারানো মোটেও সহজ হবে না। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ‘চতুর’ দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় ম্যাচ কীভাবে জিততে হয়, তা মেসিরা খুব ভালোভাবেই জানেন। তবে ইংল্যান্ডের গতি ও আক্রমণভাগই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
রিচার্ডসের ভাষায়, আর্জেন্টিনার শক্তির বিপরীতে আমাদের গতি অনেক বেশি। আমরা তাদের হারাব। আমি এটা হাড়ে হাড়ে অনুভব করছি।
তবে জো কোলের এই মন্তব্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লিওনেল মেসির অন্যতম বড় প্রশংসক। মেসি-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্কেও একাধিকবার আর্জেন্টাইন মহাতারকাকেই এগিয়ে রেখেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে এক আলোচনায় কোল বলেছিলেন, আমার মনে হয়, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রাতে বালিশে মাথা রেখে ভাবেন ইশ, যদি আমি মেসির মতো ভালো হতে পারতাম! মেসিই সেই একমাত্র খেলোয়াড়, যে সবকিছু অর্জন করেছে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।
এদিকে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়েও মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক তারকা গ্যারি নেভিল। তিনি ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ‘বিশ্বের সেরা-খারাপ সেন্টারব্যাক জুটি’ বলে অভিহিত করেন।
নেভিলের মতে, এক মুহূর্তে তারা অসাধারণ খেলতে পারে, আবার পরের মুহূর্তেই এমন ভুল করে বসে, যা বিশ্বাস করা কঠিন। তবে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপালেই তাদের মধ্যে ভিন্ন এক মানসিকতা দেখা যায়।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুই ফুটবল পরাশক্তির এই দ্বৈরথকে ঘিরে তাই মাঠের বাইরে কথার যুদ্ধও এখন সমান জমে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত জো কোলের আত্মবিশ্বাস সত্যি হয়, নাকি লিওনেল মেসি আবারও নিজের জাদুতে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে দেন।
আরটিভি/এসকে