শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৪ পিএম
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনকে বেছে নিয়েছে থাইল্যান্ডের খন কায়েন চিড়িয়াখানার সাদা সিংহ ‘বয়’। একই সঙ্গে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফ্রান্স জয় পাবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রাণীটি। খবর ব্যাংকক পোস্ট।
সম্প্রতি খন কায়েন চিড়িয়াখানায় এ উপলক্ষে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। চিড়িয়াখানার পরিচালক থিপাওয়াদি কিত্তিখুনের তত্ত্বাবধানে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর জাতীয় পতাকার নিচে সিংহটির প্রিয় খাবার শূকরের মাংস ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর ‘বয়’-কে স্বাধীনভাবে খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিটি ম্যাচের জন্য একই প্রক্রিয়া তিনবার অনুসরণ করা হয়। তিন দফার মধ্যে কোনো একটি দলের পতাকার নিচের খাবার যদি সিংহটি অন্তত দুইবার বেছে নেয়, সেটিকেই তার ‘পূর্বাভাস’ হিসেবে ধরা হয়।
এই পদ্ধতিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ক্ষেত্রে ‘বয়’ দুইবারই ফ্রান্সের পতাকার নিচের খাবার নির্বাচন করে। ফলে কর্তৃপক্ষের মতে, সিংহটির পূর্বাভাস অনুযায়ী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করবে ফ্রান্স।
অন্যদিকে, স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সম্ভাব্য ফাইনালের ক্ষেত্রেও ‘বয়’ দুইবার স্পেনের পতাকার নিচের খাবার বেছে নেয়। এর ভিত্তিতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সিংহটির ‘পূর্বাভাস’ অনুযায়ী ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে স্পেন।
চিড়িয়াখানার তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সেমিফাইনালের দুই ম্যাচের ফলও সঠিকভাবে অনুমান করেছিল ‘বয়’। সে স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছিল এবং পরে সেই ফলই বাস্তবে ঘটে। এ কারণে স্থানীয় দর্শনার্থী ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সিংহটিকে ঘিরে আগ্রহ ও কৌতূহল বেড়েছে।
তবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী বা ম্যাচের আনুষ্ঠানিক ফল নির্ধারণের দাবি নয়। পরিচালক থিপাওয়াদি কিত্তিখুন বলেন, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সিংহটির স্বাভাবিক আচরণ, চলাফেরা, খাবার অনুসন্ধান, ব্যায়াম এবং ইন্দ্রিয় ব্যবহারের সুযোগ বাড়িয়ে তার মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রমের সঙ্গে জুয়া বা বাজি ধরার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং প্রাণীকল্যাণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং পর্যটনকে উৎসাহিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, প্রাণীর আচরণের ভিত্তিতে করা এ ধরনের নির্বাচন কেবল প্রতীকী ও বিনোদনমূলক। এর সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রকৃত ফলাফলের কোনো বৈজ্ঞানিক বা আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।
আরটিভি/এসকে