রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৪১ পিএম
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। এই হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ নিয়ে সরব হয়েছেন অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থক। তাদের দাবি, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আলবিসেলেস্তেরা একাধিক ষড়যন্ত্র ও প্রচারণার শিকার হয়েছে।
বিতর্কটি আরও উসকে দিয়েছে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘তোদো নতিসিয়াস’। সম্প্রতি সম্প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে ১০ জন পরিচিত ব্যক্তিত্বের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে মিসরের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসানকে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় মিসর। ওই ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি।
সম্প্রচারমাধ্যম ‘বেইন স্পোর্টস’-কে হোসাম হাসান বলেন, ‘আমরা তাদের চেয়ে ভালো দল ছিলাম। কিন্তু যা ঘটেছে, তা স্রেফ অন্যায়। আমাদের একটা স্পষ্ট পেনাল্টি দেওয়া হয়নি এবং একটি গোল বাতিল করা হয়েছে। এটা কি কেবল মার্কেটিংয়ের জন্য? তারা কি যেকোনো মূল্যে মেসিকে খেলিয়ে যেতে চায়?’
আর্জেন্টিনাবিরোধী এই তালিকায় নাম রয়েছে ব্রিটিশ উপস্থাপক ও সংবাদকর্মী পিয়ার্স মরগানেরও। আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের আচরণের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছিলেন, ‘তাদের আচরণ ছিল জঘন্য, বিশেষ করে পারেদেসের। তারা একটি সহিংস দল এবং ফুটবলের জন্য কলঙ্ক।’ তবে ওই টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জোনাথান ফিয়ালি কড়া জবাব দিয়ে বলেন, ‘আমরা কি শেষ পর্যন্ত একজন ইংরেজ সাংবাদিকদের মুখে এসব আজেবাজে কথা শুনব?’
তালিকায় স্থান পেয়েছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনও। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্প্যানিশ সংগীতশিল্পী রোসালিয়া এবং চিলির অভিনেতা পেদ্রো পাসকালের নামও রয়েছে এই তালিকায়। তবে প্রতিবেদনে তাদের মন্তব্য ও অবস্থানের বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অনুরাগী হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আইশোস্পিডকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর তার অতি-উচ্ছ্বাস প্রকাশ এবং আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বাকবিতণ্ডাকে আর্জেন্টিনাবিরোধী আচরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
‘তোদো নতিসিয়াস’-এর এই বিস্ফোরক প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের একাংশ একে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে চক্রান্তের যথার্থ জবাব হিসেবে দেখলেও, অনেকে বিষয়টিকে স্রেফ অতিরঞ্জন ও সাধারণ সমালোচনাকে ষোড়যন্ত্র হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করছেন।
আরটিভি/এআর