মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৩ পিএম
গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে স্পেনের অটল অবস্থান এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় বিশ্বকাপ ফাইনালে ইয়ামালদের সমর্থন জানিয়েছিলেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনিরা। অথচ ইসরায়েলি দখলদারিত্বের মুখে অস্তিত্ব হারানোর শঙ্কায় ফিলিস্তিন ফুটবল।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার ফুটবল পরিকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৫৬৮ জন ফুটবলার, কোচ ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
এদেরই একজন ১৭ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার ফাদি আল-নাআসান, যিনি সম্প্রতি দখলদারদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। খেলার জগৎকে এভাবে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করাকে ফিলিস্তিন জাতীয় দলের ফুটবলার মোহাম্মদ রশিদ আখ্যা দিয়েছেন ‘স্পোর্টিসাইড’ বলে।
পশ্চিম তীরেও গত প্রায় তিন বছর ধরে ঘরোয়া ফুটবল লিগ পুরোপুরি বন্ধ। অনুশীলনে যাওয়ার পথেই গ্রেপ্তার হচ্ছেন খেলোয়াড়রা। সম্প্রতি জাতীয় দলের দুই নারী ফুটবলার রান্দ হালাওয়ানি ও নাতালি আবু দিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সাবেক জাতীয় ফুটবলার আহমেদ আবু খাদিজাকে বিচার ছাড়াই রাখা হয়েছিল ১৭ মাসের বিনাবিচারে আটকাবস্থায়। আল-বিরেহ শহরের অনুশীলনের মাঠগুলোর ঠিক পাশেই রয়েছে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি। সেখানকার তরুণ অ্যাথলেটরা জানে, যেকোনো অনুশীলনই হতে পারে তাদের জীবনের শেষ অনুশীলন।
জাতীয় নারী দলের সদস্য সারা শাখশির বলেন, ইসরায়েল হয়তো একজন ফুটবলারকে বন্দি করতে পারে কিংবা খেলার মাঠ গুড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু ফিলিস্তিনের অস্তিত্বকে মুছে ফেলার চক্রান্ত তারা কখনোই সফল হতে দেবে না।

ইসরায়েলের এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা পুরোপুরি উদাসীন। দখলকৃত জায়গায় হওয়া ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই তারা ঘরোয়া ফুটবলের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ চালু করতে যাচ্ছেন। মৃত্যু ও ধ্বংসের মাঝেও টিকে থাকার এই লড়াই ফিলিস্তিনিদের কাছে এখন আর কেবল খেলা নয়, এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম প্রতীক।
সূত্র: দ্য নিউ আরব
আরটিভি/এসআর