রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৫৫ এএম
২০২৬ বিশ্বকাপের পর থেকে সমালোচনায় ভাসছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। উয়েফা তাকে পদত্যাগ করতে নয়তো অপসারণের জন্য ভোটের মুখোমুখি হতে হুমকি দিয়েছে।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ইনফান্তিনো যদি বিদায় নেন, তবে তার উত্তরসূরি কে হতে পারেন? তবে আসন্ন ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতির নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকজনের নাম বেশ আলোচনায় রয়েছে।
ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম (ফিফা সাধারণ সম্পাদক)
২০২৪ সালের মে মাসে নিযুক্ত হওয়ার পর ফিফার নীতি-নির্ধারণই টেবিলে তিনি ক্রমেই একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। বহুভাষাবিদ গ্রাফস্ট্রোম ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তার চিফ অব স্টাফ হন।
বিশ্বকাপে ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান থাকা এই ব্যক্তিত্বকে ইনফান্তিনোর খুব কাছের লোক হিসেবে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি ফিফার পরবর্তী সভাপতি ইউরোপের বাইরের কেউ হওয়া উচিত বলে যে সাধারণ গুঞ্জন রয়েছে, সেটিও তার বিপক্ষে যেতে পারে।
ফিফার পরবর্তী সভাপতি নিশ্চিত করা হবে আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য সংস্থাটির ৭৭তম কংগ্রেসে। প্রার্থীদের তাদের নাম জমা দেওয়ার জন্য ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।
নাসের আল-খেলাইফি (পিএসজি সভাপতি এবং ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবস-এর চেয়ারম্যান)
ফুটবলকে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া আরেকটি তোলপাড় সৃষ্টি করা ঘটনা—২০২১ সালে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভেস্তে যাওয়া ইউরোপীয় সুপার লিগের পর আল-খেলাইফি ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
আল-খেলাইফির নেতৃত্বেই এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস’। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি এর সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৮০০-রও বেশি ক্লাবে উন্নীত করেছেন। বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে একমাত্র রিয়াল মাদ্রিদই এখনও এর বাইরে রয়েছে।
তাত্ত্বিকভাবে, কাতারের এই সংগঠক ইনফান্তিনোর জন্য একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতেন। কিন্তু মনে হচ্ছে তিনি এই পদে যেতে চান না।
বৃহস্পতিবার এই সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৫২ বছর বয়সী খেলাইফির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছিল, ‘তিনি সত্যিই, সত্যিই, সত্যিই এই পদটি চান না।’
ভিক্টর মন্টালিয়ানি (কনকাকাফ সভাপতি)
ইনফান্তিনোর মতো তিনিও ২০১৬ সালে সুশাসনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কানাডা সকারের সাবেক সভাপতি মন্টালিয়ানি তিন দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রথম ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রস্তুতি ও সফল আয়োজনে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি, ইতালীয় এবং স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীল।
২০২৪ সালে কনকাকাফ যখন বর্ধিত কোপা আমেরিকা আয়োজন করে, তখন মন্টালিয়ানি মূল নেতৃত্বে ছিলেন—তবে বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এটি নিয়মিত করার চিন্তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী মন্টালিয়ানি প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে আর্সেন ভেঙ্গারের প্রচেষ্টায় তৈরি জটিলতাগুলো দূর করেছিলেন এবং ৬৪ দলের বিশ্বকাপের ধারণাটি কখনোই সেভাবে মেনে নেননি।
শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা (এএফসি সভাপতি)
প্রথম ২০১৩ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ২০২৭ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
বাহরাইনের এই ফুটবল সংগঠক এশিয়ান কনফেডারেশনের ভেতরে ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট’, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’, ‘চ্যালেঞ্জ লিগ’ এবং ২০২৪-২৫ সালে চালু হওয়া ‘উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’-এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া এশিয়ান কাপকে ২৪টি দলে উন্নীত করা হয়েছে।
ইনফান্তিনো যেভাবে ফিফা পরিচালনা করছেন, সেটির কঠোর সমালোচনায় সম্মতি জানান শেখ সালমান। তিনি তার ৪৬ সদস্যের কনফেডারেশনকে পাশে রেখেছেন, যাদের অনেকেই জানেন যে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা থেকে দেওয়া অর্থ প্রস্তাব তাদের সামগ্রিক ফুটবল খরচের তুলনায় অনেক বড় অংক।
আরটিভি/এসআর