বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৫:২৮ পিএম
বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বাতিল করে ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নির্বাহীদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় সভাপতি হিসেবেই বহাল থাকছেন তিনি।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। সমালোচনার জেরে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করা হলেও, বিষয়টি যেভাবে পরিচালিত হয়েছে তা নিয়ে ফিফার ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়।
রাবাতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ফিফার ২১১ সদস্য দেশের ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন রয়েছে।
এদিকে ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রোম যৌথভাবে ফিফার সহসভাপতি, কাউন্সিল এবং সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পরিকল্পনাটি নিয়ে ভুল স্বীকার করে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা। প্রস্তাবে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে ৪ কোটি ডলার করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)সহ বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার লুইস ফিগো ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, তিনি ফিফা সভাপতির পদটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ফুটবলকে বাঁচাতে এখন নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ফিফা জানিয়েছে, কাউন্সিল ও সদস্য দেশগুলোকে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। সংবাদমাধ্যমে পরিকল্পনাটি ফাঁস হওয়ার পর যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে, সেখানে ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেছে সংস্থাটি।
সব বিতর্কের মধ্যেও ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য সভাপতি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনে জয়ী হতে হলে ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোট প্রয়োজন হবে।
যদিও ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এখনও তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছে না। ফলে ক্ষমা প্রার্থনার পরও এই বিতর্ক কতটা থামবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
আরটিভি/এসকে