images

তথ্যপ্রযুক্তি

স্মার্ট সেন্সরে মিলছে বিশুদ্ধ পানি

শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:৩৩ পিএম

গ্রামাঞ্চলে বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এক অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন আয়ারল্যান্ডের গবেষকরা।

আয়ারল্যান্ডের ডোনেগাল কাউন্টির ‘আটলান্টিক টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি’র (এটিইউ) গবেষক দল ২০১৯ সাল থেকে এমন এক ‘স্মার্ট সেন্সর’ নিয়ে কাজ করছেন, যা পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার গভীর নলকূপগুলোর হ্যান্ডপাম্পের ত্রুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।

সৌরশক্তিচালিত এই ছোট যন্ত্রটি মূলত পানির পরিমাণ, পাম্পের হাতল ব্যবহারের সংখ্যা এবং এর আশপাশের নড়াচড়া সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে। যন্ত্রটি উগান্ডার স্থানীয় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রতি ঘণ্টায় একবার সংগৃহীত তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের গবেষক দলের কাছে পাঠায়।

যদি কোনো পাম্পে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়, তবে গবেষকরা তাৎক্ষণিকভাবে উগান্ডার স্থানীয় মেকানিককে বার্তা পাঠিয়ে দেন, যাতে দ্রুত পাম্পটি মেরামত করা যায়।

গ্রামীণ এলাকায় মানুষ সুপেয় পানির জন্য হ্যান্ডপাম্প বা চাপকলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, কিন্তু এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে তাদের খোলা জলাশয় বা কুয়ার দূষিত পানি পান করতে হয়, যাতে ক্ষতিকর ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি থাকে।

এই নতুন প্রযুক্তির ফলে নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে থাকার সময় কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে। এ বছরের সেপ্টেম্বরে উগান্ডার কুমি অঞ্চলে ১০টি নলকূপে এই প্রযুক্তির সর্বশেষ পরীক্ষামূলক সংস্করণ বসানো হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের এই লেটারকেনি শহরে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি উগান্ডার মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে গর্ব প্রকাশ করেছেন প্রকল্পের গবেষক সেনান মরিস।

আরও পড়ুন
2515151

প্রযুক্তির জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে

আয়ারল্যান্ডের এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ বা আইওটি ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। এই প্রকল্পে এটিইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এরুপ’, সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ‘অ্যানালগ ডিভাইসেস’ এবং উগান্ডার কুমি জেলা পানি বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে।

গবেষকরা আশা করছেন, আগামী বছর নাগাদ এই প্রযুক্তি পুরোপুরিভাবে তাদের সহযোগী দাতব্য সংস্থা ‘ফিল্ডস অফ লাইফ’-এর কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে লাইবেরিয়াসহ অন্যান্য দেশের দাতব্য সংস্থাগুলোও তাদের দুর্গম এলাকায় এই স্মার্ট সেন্সর ব্যবহারের ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে।

আরটিভি/এএইচ