রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬ , ১০:৫৮ এএম
বিশ্বখ্যাত ফিনিশ টেলিকম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নোকিয়া বিশ্বব্যাপী তাদের কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ব্যয় সংকোচন ও ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সংস্থাটি ধাপে ধাপে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে পারে। এই বিশাল সংখ্যাটি নোকিয়ার বর্তমান মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমান, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় কর্মীসংকোচন।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নোকিয়ার কর্মীসংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে শুধু ভারতের বিভিন্ন প্রযুক্তি কেন্দ্র ও গবেষণা ইউনিটগুলোতেই প্রায় ১৭ হাজার কর্মী কাজ করছেন। ফলে এই বৈশ্বিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার বড় একটি নেতিবাচক প্রভাব ভারতের কর্মীদের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোকিয়ার এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবসার কাঠামোগত আমূল পরিবর্তন। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি তাদের ক্লাউড ও নেটওয়ার্ক সার্ভিসেস ইউনিটকে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিভাগের সঙ্গে একীভূত করে। এই সংযুক্তির ফলে বিভিন্ন বিভাগে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি তৈরি হয়। মূলত পুরো কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, গতিশীল ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করতেই এই ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে কর্তৃপক্ষ।
প্রযুক্তি খাতে ব্যয় কমানো ও কাঠামো ছোট করার যে প্রবণতা বেশ কিছুদিন ধরে চলছে, নোকিয়ার সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। গত কয়েক বছরে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্টরাও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাও বড় পরিসরে কর্মীসংকোচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
নোকিয়ার এই ছাঁটাইয়ের খড়্গ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের ওপরও পড়তে যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রিস, ইতালি, জার্মানি এবং ফ্রান্সে প্রায় ১,৪০০ কর্মী চাকরি হারানোর তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নোকিয়াতে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার কর্মী থাকলেও ধারাবাহিক পুনর্গঠনের ফলে তা বর্তমানে ৭৪ হাজারে নেমে এসেছে।
এদিকে নোকিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সুইডিশ প্রতিষ্ঠান এরিকসন-ও খরচ কমানোর লক্ষ্যে একই পথ বেছে নিয়েছে। গত বছরই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল এবং ভবিষ্যতেও তাদের আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রসারের এই যুগে সনাতন টেলিকম খাতের এই কর্মীসংকোচন পুরো বিশ্বের শ্রমবাজারে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।
আরটিভি/এআর