images

তথ্যপ্রযুক্তি

ইনস্টাগ্রামে আর থাকছে না ‘গোপন চ্যাট’: ব্যক্তিগত মেসেজ কি এখন ঝুঁকিতে?

সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৮:১৩ পিএম

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বনাম জননিরাপত্তার দীর্ঘ লড়াইয়ে বড় এক মোড় নিল মেটা। ইনস্টাগ্রামে এখন থেকে আর থাকছে না ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড’ মেসেজিং বা গোপন চ্যাট করার বিশেষ সুবিধা। ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে হঠাৎ করেই এই ফিচারটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যেই ইন-অ্যাপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং জরুরি কোনো মেসেজ বা মিডিয়া ফাইল থাকলে তা আগেভাগেই সেভ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আসলে কী ঘটেছে?

২০১৯ সালে মেটা কথা দিয়েছিলো তারা ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামকে আরও ব্যক্তিগত ও গোপন করে তুলবে। সেই লক্ষ্যে তারা কাজও শুরু করেছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা এক বিশাল ‘ইউ-টার্ন’ নিয়েছে। মেটা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৮ মে থেকে ইনস্টাগ্রামে এই বিশেষ এনক্রিপশন সুবিধা আর কাজ করবে না।

এখন থেকে সেখানে থাকবে কেবল ‘স্ট্যান্ডার্ড এনক্রিপশন’।

স্ট্যান্ডার্ড এনক্রিপশন কী?

এটি অনেকটা জিমেইলের মতো। আপনার মেসেজ ইন্টারনেটে আদান-প্রদানের সময় সুরক্ষিত থাকবে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো মেটার সার্ভারে জমা থাকবে। অর্থাৎ, প্রয়োজন মনে করলে বা আইনি কোনো চাপে মেটা কর্তৃপক্ষ আপনার মেসেজ, ছবি, ভিডিও বা ভয়েস নোট দেখতে বা অ্যাক্সেস করতে পারবে।

আরও পড়ুন
INSTRAGRAM

ইনস্টাগ্রাম থেকে কোটি কোটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ, কারণ জানালো মেটা

কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল মেটা?

মেটা অফিশিয়ালি জানিয়েছে, খুব কম মানুষ এই ফিচারটি ব্যবহার করছিলেন। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা এর পেছনে আরো বড় কিছু কারণ থাকতে পারে:

শিশু সুরক্ষা: বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা যেমন 'এনএসপিসিসি' মনে করে, গোপন চ্যাটের আড়ালে অপরাধীরা শিশুদের উত্ত্যক্ত করার সুযোগ পায়। এই ফিচার বন্ধ হলে অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।

এআই  প্রশিক্ষণ: অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, মেটা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলকে আরও উন্নত করার জন্য ব্যবহারকারীদের মেসেজের ডেটা ব্যবহার করতে চায়। এনক্রিপশন থাকলে তারা এই তথ্যগুলো পড়তে পারে না।

আইনি ও ব্যবসায়িক চাপ: বিজ্ঞাপন প্রচার বা সরকারি প্রয়োজনে তথ্য সরবরাহ সহজ করতেই এই পিছুটান বলে অনেকে মনে করছেন।

এতে আপনার ওপর কী প্রভাব পড়বে?

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মেসেজ আদান-প্রদানের ধরনে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু যারা নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা সেনসিটিভ তথ্য নিয়ে সচেতন, তাদের জন্য এটি দুশ্চিন্তার কারণ।

এখন আপনার যা করা উচিত:

১. গোপন তথ্যে সতর্কতা: অত্যন্ত ব্যক্তিগত বা গোপনীয় কোনো তথ্য এখন থেকে ইনস্টাগ্রাম ডিএম এ শেয়ার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

২. অন্য অ্যাপের ব্যবহার: যদি আপনার তথ্যের শতভাগ সুরক্ষা প্রয়োজন হয়, তবে সিগন্যাল বা হোয়াটসঅ্যাপ এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে এখনো ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ চালু আছে।

৩. ডেটা ব্যাকআপ: যদি আপনার কোনো গুরুত্বপূর্ণ এনক্রিপ্টেড চ্যাট থাকে, তবে সেগুলো এখনই সেভ বা ডাউনলোড করে রাখুন।

উল্লেখ্য, মেটার এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল দুনিয়ায় ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা’ বনাম ‘জননিরাপত্তা’র লড়াইকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে।

সূত্র: বিবিসি 

আরটিভি/এমএ