বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০২:৩২ পিএম
বিশ্বজুড়ে এআইয়ের বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের পেছনে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশের হাজারো মুক্তপেশাজীবী। তারা এআইয়ের বিভিন্ন মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, ভবিষ্যতে নিজেদের এআইভিত্তিক পণ্য ও সেবা তৈরি করতে না পারলে এই খাতে বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের মডেল তৈরির ক্ষেত্রে তথ্য সাজানো, ভুল সংশোধন, উত্তর মূল্যায়ন, ছবি ও শব্দ শনাক্তকরণ, কথোপকথনের মান যাচাই এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। এসব কাজের মাধ্যমে এআই আরও নির্ভুল ও কার্যকর হয়ে ওঠে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এআইয়ের তথ্য প্রস্তুত ও সাজানোর বৈশ্বিক বাজার ২০২৫ সালে প্রায় ২৩৭ কোটি মার্কিন ডলার ছিল। ২০৩৪ সালের মধ্যে এর আকার প্রায় ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এআই প্রশিক্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন কাজে যুক্ত রয়েছেন।
বাংলাদেশেও এই খাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মুক্তপেশাজীবী রয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা বৈদেশিক বাজারে কাজ করে প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ কম খরচে দক্ষ জনবল দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। তবে সহজ ও পুনরাবৃত্তিমূলক অনেক কাজ এখন ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এসব কাজের চাহিদা কমে যেতে পারে।
উত্তর দক্ষিণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাবিল মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, এআইয়ের তথ্য প্রস্তুতের কাজ দেশের জন্য ভালো সূচনা হলেও এটিকে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে এটি আগের মতোই শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য কম খরচের কাজ করার আরেকটি খাতে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, এআইয়ের সাধারণ প্রশিক্ষণের কাজ দ্রুত গুরুত্ব হারাতে পারে। তাই শুধু এসব দক্ষতায় সীমাবদ্ধ থাকলে ভবিষ্যতে কম মজুরির পাশাপাশি কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হবে।
এই খাতে কাজ করা তাওসিফ নিলয় গণমাধ্যমকে জানান, এআইয়ের প্রশিক্ষণ থেকে প্রকল্প সমন্বয় বা নীতিনির্ধারণের মতো উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আরেক কর্মী ফারদিন জারিফ বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে ছাঁটাইয়ের কারণে সেই সুযোগ তৈরি হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ বাজারে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য প্রস্তুতের কাজ নয়, বরং নিজস্ব এআইভিত্তিক প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য নীতিগত সহায়তা, গবেষণা, বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আরটিভি/জেএমএ