images

তথ্যপ্রযুক্তি

আজই চালু হয়েছিল বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০১:৩৮ পিএম

আজ ৬ আগস্ট। প্রযুক্তির ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ব্রিটিশ কম্পিউটারবিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট সবার জন্য উন্মুক্ত করেন। সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এ কর্মরত অবস্থায় তিনি নিজের উদ্ভাবিত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেন। একই সঙ্গে প্রকাশ করেন বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট http://info.cern.ch।

১৯৫৫ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন টিম বার্নার্স-লি। তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন কম্পিউটারবিজ্ঞানী। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি সার্নে যোগ দেন। ১৯৮০-এর দশকে সেখানে কাজ করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজারো গবেষকের প্রকল্প ও কম্পিউটারভিত্তিক তথ্য খুঁজে বের করা বেশ কঠিন।

এই সমস্যার সমাধানে ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে বার্নার্স-লি সার্নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রস্তাব দেন। এতে ইন্টারনেটে যুক্ত বিভিন্ন কম্পিউটারের নথি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হাইপারটেক্সট ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রস্তাবটি প্রথমে গ্রহণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন
BOMB

পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা গ্রহাণুকে পারমাণবিক বোমা দিয়ে ঠেকানোর চিন্তা

পরে সার্নের প্রকৌশলী রবার্ট কাইলিয়াউ-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রস্তাবটি হালনাগাদ করে আবার জমা দেন তিনি। ১৯৯০ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে এর নাম ছিল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব।

১৯৯০ সালের শেষ দিকে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস-এর নকশা করা নেক্সট কম্পিউটার ব্যবহার করে টিম বার্নার্স-লি ওয়েব পেজ তৈরির জন্য হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ, তথ্য আদান-প্রদানের জন্য হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল এবং ওয়েব ঠিকানার ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর (ইউআরএল) তৈরি করেন। পাশাপাশি একটি ব্রাউজার ও ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যারও তৈরি করেন।

এরপর ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট। সাইটটিতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, এটি কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হয়—এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল।

বিশ্বব্যাপী তথ্যজালের এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন থেকে টিম বার্নার্স-লি কোনো অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেননি। এমনকি প্রযুক্তিটি পেটেন্ট করার জন্য সার্নের আহ্বানও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তার বিশ্বাস ছিল, প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেই এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং উন্নত হবে। এ বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রযুক্তিটি যদি পেটেন্ট করা থাকত এবং তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে থাকত, তাহলে এটি কখনোই আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না।

১৯৯৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপারকম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশনস জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার মোসাইক প্রকাশ করে। এরপর একে একে যাত্রা শুরু করে ইয়াহু (১৯৯৪), অ্যামাজন (১৯৯৫), ইবে (১৯৯৫) এবং গুগল (১৯৯৮)। ইন্টারনেট লাইভ স্ট্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ফেসবুক চালুর আগেই বিশ্বে ৫ কোটি ১০ লাখের বেশি ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছিল।

১৯৯৪ সালে টিম বার্নার্স-লি সার্ন ছেড়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও ওয়েবের মানদণ্ড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রচারবিমুখ এই বিজ্ঞানী পরবর্তী সময়ে টাইম সাময়িকীর বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পান। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। পরে ২০০৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশন।

সূত্র: হিস্টরি ডটকম

 

আরটিভি/জেএমএ