পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা গ্রহাণুকে পারমাণবিক বোমা দিয়ে ঠেকানোর চিন্তা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৫৫ এএম


পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা গ্রহাণুকে পারমাণবিক বোমা দিয়ে ঠেকানোর চিন্তা
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিশাল কোনো গ্রহাণুকে ঠেকাতে শেষ বিকল্প হিসেবে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ব্যবহারের ধারণা এতদিন বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বা হলিউডের সিনেমাতেই বেশি দেখা গেছে। তবে এবার বিষয়টি নিয়ে বাস্তবভিত্তিক গবেষণা করেছেন চীনের একদল বিজ্ঞানী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প সময়ের সতর্কবার্তা পাওয়া গেলে এবং গ্রহাণুটি যদি আকারে বড় হয়, তাহলে এর গভীরে পারমাণবিক বিস্ফোরক স্থাপন করে বিস্ফোরণ ঘটানো পৃথিবীকে রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।

চায়না একাডেমি অব লঞ্চ ভেহিকেল টেকনোলজির গবেষকেরা তাদের গবেষণাটি স্পেস: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সাময়িকীতে প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় বলা হয়েছে, কয়েক শ’ মিটার থেকে এক কিলোমিটার ব্যাসের গ্রহাণুর ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রতিরোধব্যবস্থা সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে। বিশেষ করে আঘাত হানার আগে সময় খুব কম থাকলে পারমাণবিক বিস্ফোরণই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।

গবেষকদের কম্পিউটার সিমুলেশন অনুযায়ী, একটি মহাকাশযান প্রথমে বিশেষ ভেদকারী যন্ত্রের মাধ্যমে গ্রহাণুর গভীরে গর্ত তৈরি করবে। এরপর সেই গর্তে পারমাণবিক বিস্ফোরক স্থাপন করে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে, যাতে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করা বা সেটিকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়।

সিমুলেশনে বিভিন্ন মাত্রার বিস্ফোরণ, বিস্ফোরকের অবস্থান, উৎক্ষেপণযানের গতি এবং গ্রহাণুর গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, হিরোশিমায় ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ শক্তিশালী বিস্ফোরণ প্রায় ১০০ মিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুকে চূর্ণবিচূর্ণ করতে সক্ষম।

এছাড়া গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রহাণুর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার গভীরে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে অগভীর বিস্ফোরণের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি কার্যকরভাবে এর গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব। প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুর ২০ মিটার গভীরে বিস্ফোরণ ঘটালে সেটির পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাওয়ার বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বাড়ানো যেতে পারে বলেও দাবি করেছেন গবেষকেরা।

বর্তমানে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য নাসার পরীক্ষিত ডার্ট মিশনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি রয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, বিশাল আকারের গ্রহাণু এবং খুব অল্প সময়ের সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি যথেষ্ট দ্রুত কার্যকর নাও হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান করা অনেক বড় গ্রহাণু এখনও শনাক্ত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘর্ষের মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ আগে সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। তাই এমন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নতুন এই গবেষণা ভবিষ্যতের গ্রহাণু প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন

গ্রহাণু হলো পাথর, ধাতু ও খনিজ দিয়ে গঠিত ছোট মহাজাগতিক বস্তু, যা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। অধিকাংশ গ্রহাণু মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী গ্রহাণু বলয়ে অবস্থান করলেও কিছু গ্রহাণু পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি চলে আসে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, অতীতে এমন মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতেই পৃথিবীতে বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তন এবং বহু প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটেছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission