রাজধানীর একটি বাসার গ্যারেজ থেকে বিষধর গোখরা সাপ উদ্ধার হয়েছে।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিকেতন এলাকার একটি বাসার নিরাপত্তারক্ষী সাপটি দেখতে পান। পরে বাসার মালিককে জানালে তিনি নিকেতন সোসাইটিকে খবর দেন। তারা (সোসাইটি) ৯৯৯-এর মাধ্যমে বনবিভাগকে বিষয়টি অবহিত করে।
পরে বনবিভাগ নির্দেশনায়, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষার্থে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী দল সেভ ওয়াইল্ডলাইফ এন্ড নেচার-সোয়ান সাপটি উদ্ধার করে।
উদ্ধারকর্মী আদনান বলেন, এটি বিষাক্ত গোখরা সাপ। আমার ধারণা, পাশের খাল থেকে এটি আসতে পারে। উদ্ধার সাপটিকে বনবিভাগের নির্দেশনায় প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।
এদিকে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা বলেন, গোখরা দেশের সর্বত্রই দেখা যায়। সাধারণত সাপটি বসতবাড়ির আশপাশে, ছোট ঝোপঝাড়, ইঁদুরের গর্ত, পুরাতন ভবন ও ইটের ফাঁকফোকরে বাস করে। কিছুটা ধূসর বাদামি বর্ণের এই সাপটি লম্বায় প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দ্রুত চলাফেরা ও সাঁতার কাটায় এরা খুবই দক্ষ। সাপটি ব্যাঙ, গিরগিটি, ছোট পাখি ছাড়াও ইঁদুর ও কীটপতঙ্গ খেয়ে কৃষকের উপকার করে, যা কৃষকের শস্যভাণ্ডার পূর্ণ করতে সাহায্য করে। আর এতে খাদ্যশৃঙ্খলেও ভারসাম্য থাকে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত বর্ষাকালে (মার্চ থেকে জুলাই) একটি মা সাপ ১২ থেকে ৩০টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগে। এই সাপের বিষ নিউরোটক্সিন প্রকৃতির, যা দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ও স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়।
আরটিভি/আইএম
