রাজধানীর হাজারীবাগের একটি বাসা থেকে আনিশা ফেরদৌসী (২২) নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আনিশা ফেরদৌসী রাজধানীর ফার্মগেটের ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের কম্পিউটার সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলায়। তিনি হাজারীবাগের টালী অফিস এলাকায় মামার বাসায় থেকে পড়াশোনা করছিলেন।
আনিশার বাবা আব্দুল জলিল রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আনিশা সিটি কলেজ থেকে ইন্টার পাশ করে। তবে সিটি কলেজে পড়ার সময় সেলিম রানা নামে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর গোপনে তাকে বিয়ে করে আনিশা। তবে প্রায় ২৫ দিন আগে আমরা বিষয়টা জানতে পারি। সেলিমের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। বর্তমানে সে জিগাতলায় থাকে। সেখানে একটি ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর আনিশা জানতে পারে সেলিমের আরও একটি বউ আছে যে কুষ্টিয়ায় থাকে। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই তাদের দুজনের ঝগড়া হতো। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আনিশা ফোন করে এসব ঘটনা আমাদের জানায়। এসব শুনে আমি এবং আনিশার মা শনিবার দুপুরে ঢাকায় হাজারীবাগের বাসায় আসি। পরবর্তীতে বিকেলের দিকে আনিশা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। ওই সময় অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খুললে আমরা বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলি। এরপর ভেতরে প্রবেশ করে দেখি- আনিশা ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। পরে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে মারা যায় আনিশা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিষয়টি হাজারীবাগ থানায় জানানো হয়েছে। থানা পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করবে।
আরটিভি/এমএইচজে





