‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিষয় নয়, এটি স্বতঃস্ফূর্ত সংস্কৃতির ফল’

আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬ , ১২:৩৪ পিএম


‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিষয় নয়, এটি স্বতঃস্ফূর্ত সংস্কৃতির ফল’
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হঠাৎ করে তৈরি হওয়া কোনো রাজনৈতিক ধারণা নয়, বরং এটি জাতির দীর্ঘ ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার ফল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ তাদের যে আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, তারই আধুনিক রূপ হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। এটি কোনো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা কৃত্রিম বিষয় নয়, এটি এ দেশের মাটির স্বতঃস্ফূর্ত সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্টেকহোল্ডারস অব বাংলাদেশ (এসওবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক বিনির্মাণ: অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ কোন পথে?’  শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে কি-নোট উপস্থাপন করেন সাংবাদিক মাসউদ বিন আব্দুর রাজ্জাক।  কি-নোটে, দেশের বর্তমান সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে দুটি বিপরীতমুখী কিন্তু সমানভাবে নেতিবাচক প্রবণতা তুলে ধরা হয়। 

বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, একদিকে দীর্ঘ সময় ধরে ‘কলকাতা-কেন্দ্রিক’ বাঙালি জাতীয়তাবাদকে অতি-প্রাধান্য দেওয়ার ফলে এ দেশের লৌকিক ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বা আদর্শিক উদ্দেশ্যে ভাষাকে বিকৃত করে ‘আরোপিত ইসলামীকরণের’ চেষ্টা চলছে।

বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, স্বাধীনতাকে ‘আজাদী’, বিপ্লবকে ‘ইনকিলাব’, কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ব্যঙ্গাত্মক নামে ডাকার প্রবণতা কোনো স্বাভাবিক বিবর্তন নয়; বরং এটি চাপিয়ে দেওয়া প্রক্রিয়া। এটি এই ভূখণ্ডের কয়েক শতাব্দীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ভাষা বা জাতিগত পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করে ভূখণ্ডভিত্তিক নাগরিক পরিচয়ের ওপর জোর দেয়। রাষ্ট্র এমন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো গড়তে চায় যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি সনাতনী, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও সমান মর্যাদা পাবে।

গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, সঙ্গীতশিল্পী ও রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ আসিফ আলতাফ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, পলিটিক্যাল ইকোনমিস্ট ড. সফিকুর রহমান, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম এবং আগামীর সময়ের হেড অব ক্রিয়েটিভ শিমুল সালাহউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে গোলটেবিল বৈঠকটি পরিচালনা করেন শিক্ষক ও গবেষক ফারাহ্‌ দোলন। 

সমাপনী বক্তব্যে স্টেকহোল্ডারস অব বাংলাদেশের (এসওবি) মুখ্য সংগঠক ডা. সায়েম মোহাম্মদ বলেন, স্টেকহোল্ডারস অব বাংলাদেশ বিশ্বাস করে কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে সংলাপের মাধ্যমেই জাতীয় সংহতি সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য হলো গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে একটি মানবিক ও বাংলাদেশপন্থি নীতিমালা প্রণয়ন করা।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission