আজ চৈত্রের শেষ দিন। সূর্যাস্তের পর শেষ হতে চলেছে বাংলা ১৪৩২ সাল। আগামীকাল পহেলা বৈশাখ। বাংলা নতুন বছর বরণে সর্বত্র চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নববর্ষের উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পোশাকেও। তাই রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে বিক্রিও এখন বেড়ে গেছে।
নববর্ষ বরণে সারা দেশেই এখন সাজ সাজ রব। অভিজাত বুটিক হাউস থেকে শুরু করে সাধারণ মার্কেট; সবখানেই ক্রেতাদের চোখে পড়ার মতো ভিড়।
নারী ক্রেতারা বলছেন, নতুন বছরকে ঘিরে এবার তারা বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন বছর উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় তো কেনাকাটা করতেই হয়। শম্পা নামে এক নারী ক্রেতা বলেন, এবার পরিকল্পনা একটু শাড়ি পরার। একটু ভালোভাবে সাজবো। অফিস আছে, তাই শাড়ি পরে অফিসে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।
উৎসবের রঙে রঙিন হতে শাড়ি-পাঞ্জাবিই থাকছে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে। তবে এবার শুধু লাল-সাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য রঙের পোশাকের প্রতিও ঝোঁক বাড়ছে। অনেক ক্রেতারা জানান, এখন বৈশাখে শুধু লাল-সাদা পরতেই হবে এমন ধারণা আর নেই। এখন কালারফুল যেকোনো ড্রেসই বৈশাখে পরা যায়। সিল্ক, এন্ডি সিল্ক, কটনসহ বিভিন্ন ধরনের ফ্যাব্রিকের পোশাকেরও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু নিজেকে সাজানো নয়, ঘর সাজানোর দিকেও নজর দিচ্ছেন অনেকে। আলপনার পাশাপাশি মাটির সরা কিংবা রিকশা পেইন্টের তৈজস দিয়ে ঘর-বাড়িকে বাঙালিয়ানার রূপ দিতে চাইছেন তারা।
সাধারণ মানুষ বলছেন, একদিনের জন্য হলেও উৎসবের জন্য ঘরটা সুন্দরভাবে সাজাতে চান তারা। বাসার ভেতরে নতুন ফুল রাখা, নতুন প্লেট বা থালা ব্যবহার করা এবং মিষ্টি সাজিয়ে পরিবেশ তৈরি করাই তাদের পরিকল্পনা।
নববর্ষ উপলক্ষে দেশীয় উদ্যোক্তারাও এবার ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছেন। ঈদের পর কিছুটা সময় পাওয়ায় এবার ক্রেতাদের সাড়া তুলনামূলক বেশি মিলছে বলে জানান তারা। ব্যবসায়ীরা বলেন, বৈশাখে লাল-সাদার একটি চিরাচরিত আবেদন থাকে, তাই এসব রঙের পোশাকের চাহিদাই বেশি। ব্লকের শাড়ি এসেছে এবং মাথুরাই শাড়িগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। ঈদের পর বৈশাখের জন্য সময় পাওয়ায় ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারছেন।
বাঙালিয়ানাকে ফুটিয়ে তুলতে সাজ-সজ্জার পাশাপাশি কাঠ, মাটি ও বিভিন্ন ধাতুর তৈরি মানানসই গহনাও কিনছেন অনেক ক্রেতা। নতুন বছর মানে ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তন নয়,
বরং নতুন চেতনায়, নতুন ভাবে বাঁচার অনুপ্রেরণাও। তাই ঘর-বাড়ির পাশাপাশি মানুষ নিজেদেরও নতুন করে সাজিয়ে তুলছেন নববর্ষ উৎসবের আবহে।
আরটিভি/এমআই




