ঢাকায় বাসা-বাড়িতে গোপন ল্যাব, গড়ে উঠেছে মাদকের কারখানা

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ , ০১:১২ পিএম


ঢাকায় বাসা-বাড়িতে গোপন ল্যাব, গড়ে উঠেছে মাদকের কারখানা
প্রতীকী ছবি

রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার কিছু বাসা বাড়িতে মিনি ল্যাবরেটরি বসিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের মাদক। সেই মাদক আবার অনলাইনে অর্ডার নিয়ে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এমনকি এসব মাদক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে দেশের বাইরে। আর এই চক্রের বাংলাদেশিদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বিদেশিরাও।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে এমন কিছু ল্যাবরেটরি বা কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এ ধরনের কারখানা বসিয়ে মাদক উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত অন্তত তিনটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি। আর এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। 

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা
চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় ডিএনসি। ঘটনাস্থল থেকে কারখানার মালিক তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। শিমুল একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট হিসেবে চাকরি করতেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে ইয়াবা তৈরির কারখানা খুলে বসেন। 

প্রায় এমনই একজন তৌসিফ হাসান। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিখে আসেন অপ্রচলিত মাদক ‘কুশ (উন্নত জাতের গাঁজা বা মারিজুয়ানা) চাষের পদ্ধতি। এরপর নিজের বাসাতেই গড়ে তোলেন গাঁজার খামার। খবর পেয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি বাসাটিতে অভিযান চালিয়ে তৌফিকের বান্ধবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তৌফিক তখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ডিএনসি। 

Capture

একইদিনে রাজধানীর ভাটারার জোয়ারসাহারা এলাকায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সেখানে একটি ভেজাল মদ তৈরির কারখানার সন্ধান মেলে। পাওয়া যায় ভেজাল মদ তৈরির বিপুল উপাদান। 

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ এই কারখানাটিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে সিল লাগিয়ে বাজারজাত করা হতো। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল মদ এবং মদ তৈরির উপাদানও জব্দ করা হয়। 

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এসব চক্র কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কায়ও মাদক পাঠাতো। এরা ‘অর্ডার’ নিত ডার্ক ওয়েবে আর লেনদেন করতো ক্রিপ্টো কারেন্সিতে। 

Capture2

যা বলছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, গত চার মাসের ব্যবধানে ঢাকায় ভয়ংকর অপ্রচলিত মাদক কুশ, কেটামিন ও মদের ল্যাব পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে পাওয়া গেছে ইয়াবা কারখানার সন্ধানও। সব কটি চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় মাদকের কয়েকটি ল্যাবের সন্ধান মিলেছে। একটি বিদেশি চক্রকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে মাঠে ডিএনসির সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission