পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়তে নেওয়া হচ্ছে নতুন উদ্যোগ

আরটিভি নিউজ

রোববার, ১০ মে ২০২৬ , ০৫:১৬ পিএম


পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়তে নেওয়া হচ্ছে নতুন উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এরইমধ্যে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, পার্ক ও খেলার মাঠ সংস্কার এবং লেক ও চারপাশের নদীগুলো পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত জনাকীর্ণ রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে অঙ্গীকার, এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।

কর্মকর্তারা জানান, এ জন্য দুই সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার, বন বিভাগ ও রাজধানীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছ। ইতোমধ্যে তারা কাজও শুরু করেছে, তবে পরিবর্তন আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারীর মো. সাইমুম পারভেজ রাজধানীকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি করতে আগে থেকেই বিএনপির পরিকল্পনা আছে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, বায়ুদূষণেরে দিক থেকে ঢাকার অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে। এয়ার ইনডেক্স খুব খারাপ। এটাকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য আমাদের একটা প্রচেষ্টা আছে। 

`ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা'কে বাস্তবে রূপ দিতে ৬টি লক্ষ্য বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। 

তিনি বলেন, ৬টি বিষয় হচ্ছে: ময়লা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা, শহরজুড়ে গাছ লাগানো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং কঠোর আইন প্রয়োগ।

'ক্লিন এবং গ্রিন সিটি'

গত ২৯ এপ্রিল ঢাকাকে 'ক্লিন এবং গ্রিন সিটি' হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদের প্রশ্নোত্তরপর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। 

তারেক রহমান বলেন, রাজধানীকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 

বর্তমানে ঢাকার অধিকাংশ রাস্তা ও ফুটপাত বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে। যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং, হকার ও নির্মাণসামগ্রীর কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটছে, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। 

ইতোমধ্যে রাজধানীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় হকারদের নিবন্ধন, ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মোট ৩০২ জন হকারকে পুনর্বাসন ও ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর মিরপুর এলাকার ২০২ জন ও ঢাকা দক্ষিণ গুলিস্তান এলাকার ১০০ জন হকারকে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের জন্য ডিজিটাল আইডি কার্ড দিয়েছে। 

শহরে সবুজের বিস্তার ঘটানো বিষয়ে কর্মকর্তারা জানান, আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ঢাকাও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ঢাকার সব ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগানো হবে। এতে শহরের বায়ুদূষণ কমাবে, সৌন্দর্যও বাড়বে। 

আরও পড়ুন

রাজধানীর লেক ও চারপাশের নদীগুলো ভয়াবহ দূষণের শিকার। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রতিদিন শিল্পকারখানার বর্জ্য, পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। 

একইভাবে দূষণে নষ্ট হচ্ছে হাতিরঝিল, ধানমন্ডি লেকসহ বিভিন্ন লেক। এই দূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি। 

এই সমস্যা সমাধানে রাজধানীর লেক পুনরুদ্ধার ও পানির মান বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে সরকারের। 

লেক সংস্কারের বিষয়ে কর্মকর্তারা জানান, লেক পুনরুদ্ধার করে মাছের চাষ করা যেত পারে। ঢাকার চারপাশের চারটি নদী পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

ঢাকার নিয়মিত সমস্যার মধ্যে জলাবদ্ধতা বড় একটি বিষয়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট, অলিগলি এমনকি আবাসিক এলাকাগুলোও তলিয়ে যায়। এতে যানজট যেমন বাড়ে, তেমনি চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

ঢাকা শহরে শরীর চর্চার জন্য খেলাধুলার মাঠ ও পার্কের সংখ্যা দিন দিন কমছে। মাঠ দখল করে অনেকে নির্মাণকাজ করার কারণে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান অনেক পার্ক ও মাঠই ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও ময়লা-আবর্জনা, কোথাও ভাঙা সরঞ্জাম, আবার কোথাও নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আরও পড়ুন

খেলার মাঠ ও পার্কের পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নতুন নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। 

শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে 'ক্লিনিং ডে' হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ। গত ৪ মে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ৯ মে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে 'ক্লিনিং ডে' উদযাপিত হবে। 

এক-দুই মাসে খালগুলো একটা পর্যায়ে আনা কঠিন উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, আমি যদি থাকি, তাহলে এক বছরে খালগুলো একটা পর্যায়ে নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ। 

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission