বাবার লাশের পাশে কোমলমিত শিশুর কান্না, ভিডিও ভাইরাল

নওগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১ , ০৭:২০ পিএম


বাবার লাশের পাশে কোমলমিত শিশুর কান্না, ভিডিও ভাইরাল
কোমলমতি শিশুর কান্নার সময়

সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাবার লাশের পাশে ৭ বছরের শিশুর কান্না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এলাকা হিসেবে ‘নওগাঁর সাপাহার’ উল্লেখ করা হয়। সাপাহারের কর্মরত গণমাধ্যম-কর্মীগণের ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে সেই কান্নারত ভাইরাল শিশুর খোঁজ পাওয়া যায়। ভিডিওর কান্নারত শিশুটি পোরশা উপজেলার চকবৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে মরিয়ম খাতুন।

ঘটনাটি সাপাহার উপজেলার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হলেও মূল ঘটনা পোরশা উপজেলা চকবিষ্ণুপুর কলোনী পাড়া এলাকায় ঘটেছে। ওই গ্রামে গিয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, গত শনিবার (৩ জুলাই) ওই গ্রামের ফজর বিশ্বাসের ছেলে মজিবুর রহমানের (৪০) শ্বাসকষ্ট আর জ্বর হলে সাপাহার উপজেলায় ডা. হামিদের কাছে চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়ি যায়। ওই দিন রাত ৯টার দিকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে পোরশা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মজিবুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে পর দিন রোববার সকাল ৮টার দিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তার পরিবারের লোকজন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসার পূর্বেই মৃত্যু হয় মজিবুরের।

নিহত মজিবুর পেশায় হাঁড়ি পাতিলের ফেরিওয়ালা ছিলেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মৃতদেহ মজিবুরের বাড়ি নিয়ে এসে সন্ধ্যা ৬টায় দাফন করা হয়। এর মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে যায় মজিবুরের শ্যালক আলমগীর হোসেন। এই ফাঁকে মজিবুরের ছোট মেয়ে মরিয়ম বাবার লাশের পাশে কান্নাকাটি করলে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সকাল আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এসিল্যান্ড ও পিআইও, পোরশা মৃতের বাড়ি পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসকের পরামর্শে সরকারের পক্ষ থেকে ইউএনও মৃতের স্ত্রী মোসা. তানজিলাকে ১০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

মৃতের স্ত্রী মোসা. তানজিলা আরটিভি নিউজকে জানান, রোববার সকাল ৮টার দিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই আমরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসার আগেই মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর পর আমার ভাই আলমগীর অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে যায়। বিকেল ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মৃতদেহ বাড়ি এনে সন্ধ্যা ৬টায় দাফন করা হয়।

তিনি আরও জানান, ১৪ ও ০৭ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং ১০ বছর বয়সী একজন ছেলে রয়েছে আমার। আমাদের এখন আর কোনো আয়ের উৎস নাই।

পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হামিদ রেজা আরটিভি নিউজকে জানান, জেলা প্রশাসকের পরামর্শে সরকারের পক্ষ থেকে ইউএনও মৃতের স্ত্রী মোসা. তানজিলাকে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনে অন্যান্য সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করা হয়েছে তাদের।

এসআর/

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission