কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী অতিক্রম করে মিয়ানমারে যাওয়ার পর জিম্মি করা ৪ রোহিঙ্গাকে ছেড়ে দিয়েছে আরাকান আর্মি। মুক্তি পাওয়া রোহিঙ্গারা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান।
মুক্তি পাওয়া রোহিঙ্গারা হলেন, আরাফাত উল্লাহ (২১), আনিস উল্লাহ (২২), মো. জাবের (১৪), আনোয়ার সাদেক (২৭)। তারা সবাই টেকনাফের জাদিমুড়া ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
শরণার্থী, ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সহকারী ও টেকনাফের ২৭ নম্বর জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ওই ৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিক ফেরত এসেছেন।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিজিবি শুরু থেকে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করায় তাদেরকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ফেরত আসার রোহিঙ্গারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া সংলগ্ন লালদিয়া নামের চরে এ ৪ রোহিঙ্গাকে জিম্মি করা হয়।
এ বিষয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, নাফনদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময় আরাকান আর্মি বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যায় এটা সত্য। তবে বৃহস্পতিবার যে ৪ রোহিঙ্গার কথা বলা হচ্ছে, তারা জেলে না। মূলত মাদক (ইয়াবা) আনতে এসব রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের আসা-যাওয়া করে। যে লালদিয়ার কথা বলা হচ্ছে, ওটা মিয়ানমারের অংশ। ওখানে জেলেরা মাছ ধরতে যান না। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই ৪ রোহিঙ্গা মাদক আনতে গিয়ে জিম্মি হয়েছিলেন। এখন কৌশলগত কারণে মিথ্যা বলছে।
যদিও টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ নুর বলেন, নাফনদীতে মাছ ধরতে গিয়েই ৪ জনকে আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নৌকাসহ ধরে নিয়ে যায়। এতে আরও বেশ কয়েকজন জেলে পালিয়ে আসে।
আরটিভি/এমকে/এআর





