নির্বাচিত সরকারই শেখ হাসিনার বিচার করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার (৩ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির আয়োজনে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের তৃতীয় তলায় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মেমোরিয়াল বার লাইব্রেরি হল রুমে আয়োজিত সুধীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, যদি সুষ্ঠুভাবে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার করতে হয়, তবে পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে। এই পাঁচ বছর কি দেশ অনির্বাচিত সরকারের হাতে থাকবে? এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নির্বাচিত সরকারই শেখ হাসিনার বিচার করবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কখনোই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শ ও দর্শনের দুটি রাজনৈতিক শক্তি। কেউ কেউ মনে করেন আওয়ামী লীগ গেছে, এখন বিএনপি আসবে এবং তারা একই রকম শাসন করবে, কিন্তু এটি ভুল ধারণা।
বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে বিভাজনের বীজ বপন করে গেছে। শেখ হাসিনার পতন তরুণ সমাজকে জাগ্রত করেছে। আজকের এই তরুণ প্রজন্ম শিখে গেছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়। শেখ হাসিনা দেশের সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছেন। এখন দেশের সংস্কার করতে হলে প্রয়োজন একটি নির্বাচিত সরকার, যারা জাতীয় সংসদে গঠনমূলক উদ্যোগ নেবে।
বিএনপির আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরে টুকু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি একটি নীতিনিষ্ঠ ও শক্তিশালী দল। বেগম খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্বে দেশের অগ্রগতি হয়েছে, আর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জসহ সারাদেশে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
বিচার ব্যবস্থার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী (সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ) একবার নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জ-২ এ বিএনপির জনসভা উপলক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করতে গেলে তার ওপর গুলি চালানো হয়। অথচ সেই ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। তখনকার পুলিশ সুপারকে ফোন করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন- আমি কি গুলি চালাতে বলেছি?
টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পদ বানিয়ে ফেলেছে। তারা এমনভাবে প্রচার করে যেন একমাত্র তারাই এই দেশ স্বাধীন করেছে। অথচ দেশের সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্প আজ দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেসব প্রকল্প থেকে সুফলের পরিবর্তে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে, আর এতে দেশের নাগরিকদের মাথায় ঋণের বোঝা বাড়ছে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হাইদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো, সাইদুর রহমান বাচ্চু। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য মকবুল হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, সহ-সভাপতি অমর কৃষ্ণ দাস, সহ-সভাপতি ও জেলা ড্যাব সভাপতি ডা. এম.এ লতিফ প্রমুখ।
আরটিভি/এমকে

