ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী নৌকায় ভয়াবহ আগুন, সম্ভাব্য কারণ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫, ০১:২৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার নিলাদ্রী লেকপাড় এলাকায় টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী একটি নৌকায় ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ মে) রাত ৮টার দিকে লাগা এ আগুনে নৌকাটির ৮০ শতাংশই পুড়ে গেছে। নৌকাটিতে ১২ জন পর্যটক ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তারা নিরাপদে নেমে যেতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে।

তবে, আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে এবং বারবার ঘটছে। অভিজ্ঞতার আলোকে এমন অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার তালহা বিন জসিম।

শুক্রবার (৩০ মে) রাত ১২টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে এ ধরনের অগ্নি দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।

পোস্টে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এ কর্মকর্তা পর্যটকবাহী নৌকায় এ অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রথমেই উল্লেখ করেন গ্যাস সিলিন্ডার ও রান্নার চুলা ব্যবহারের কথা। সেখানে তিনি লিখেন, অনেক নৌকায় পর্যটকদের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে গিয়ে রান্না করার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছে। কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের যে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা দরকার বেশির ভাগ নৌকায় সে ব্যবস্থা থাকেনা। এছাড়া রান্না ঘরের এতো ছোট হয়ে থাকে যে সেখানে একবার আগুন লাগলে অগ্নি নির্বাপণের সুযোগ পাওয়া যায় না। রান্না ঘরের চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডারের অন্তত তিন ফুট দূরত্বে অন্যান্য সামগ্রি রাখতে হয় অগ্নি নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু বেশির ভাগ নৌকায় রান্না ঘরের এতবড় স্পেস থাকে না। এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার মেয়াদ না দেখে কেনা, নিরাপত্তা নিয়ম না মানা, পুরনো বা মানহীন সিলিন্ডার ব্যবহার, সিলিন্ডারের সংযোগ স্থান লিকেজ আছে কিনা তা প্রতিদিন পরীক্ষা না করার কারণে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে থাকে।

তালহা বিন জসিমের মতে এ অগ্নিকাণ্ডের আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট। তিনি লিখেন, নৌকায় অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। নৌকায় সৌর প্যানেল, জেনারেটর, ব্যাটারির মাধ্যেমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও অনেক সময় নিম্নমানের তার ব্যবহার করা হয় এবং ওয়ারিং ঠিকমতো করা হয় না। এতে অনেক সময় ওভারলোডিংয়ের ফলে শর্টসার্কিট হয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এ কর্মকর্তা এরপর দায়ী করেন নৌকায় ধূমপানের বিষয়টিকে। তিনি লিখেন, অনেক পর্যটক নৌকায় ধূমপান করেন এবং সিগারেটের শেষাংশ পানিতে না ফেলে কাঠের নৌকায় ফেলেন। বাংলাদেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য বলছে, সারাদেশে অগ্নিকাণ্ডের জন্য দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো বিড়ি সিগারেটের শেষাংশ। ২০২৪ সালে সারাদেশে বিড়ি সিগারেটের জলন্ত টুকরা থেকে ৪১৩৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

তালহা বিন জসিমের মতে, নৌকায় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আরেকটি বড় সম্ভাব্য কারণ বারবিকিউ পার্টি। তিনি লিখেন, অনেক সময় পর্যটকরা নৌকার উন্মুক্ত স্থানে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়েই বারবিকিউর জন্য চুলা ব্যবহার করে থাকেন। এখান থেকে অসতর্ক থাকলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া আতশবাজি ও ফানুস উড়ানো থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তাই খোলা আগুন ব্যবহারের সাবধান হতে হবে।

এছাড়া, নৌকার কাঠামো দাহ্য হওয়ায়ও এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বারবার ঘটছে বলে অভিমত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার তালহা বিন জসিমের। তিনি লিখেছেন, বেশিরভাগ নৌকা কাঠের তৈরি, ফলে একবার আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া নৌকার ডেকোরেশনের জন্য অতি দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এজন্য অগ্নিকাণ্ড ঘটলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষতি বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া নৌকার রুমগুলো এতো ছোট হয়ে থাকে যে অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল বা আগুন প্রতিরোধী ব্যবস্থা থাকে না। এতে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে অতি প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড এবং ভয়াবহতা এড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এ কর্মকর্তার পরামর্শ, এ রকম দুর্ঘটনায় পর্যটকরা কীভাবে নৌকা থেকে জরুরি বহির্গমন করবেন তা নৌকায় দৃশ্যমান জায়গায় লিখে রাখতে হবে। ভ্রমণের শুরুতে এ বিষয়ে পর্যটকদের ব্রিফিং করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া বছরে অন্তত দুইবার জরুরি বহির্গমনের ফায়ার ড্রিল আয়োজন করা উচিত।

তালহা বিন জসিমের মতে, যেহেতু বেশিরভাগ পর্যটকবাহী নৌকা কাঠের তৈরি এবং এই ধরনের নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে, এজন্য পর্যটক পরিবহনকারী নৌকাগুলোতে কাঠের বদলে লোহার সুরক্ষিত কাঠামো ব্যবহার উৎসাহিত করা উচিত। এছাড়া সরকার ও বিআইডব্লিউটিএ এর অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে। আর কাঠ ব্যবহার করলে কাঠের উপর অগ্নিপ্রতিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।

তিনি আরও লিখেন, নৌযানগুলো যেন নিয়মিত সেফটি চেক এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ করে, তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে করে নৌকার নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হবে তেমনি পর্যটকরাও নিরাপদ থাকার আস্থা তৈরি হবে। নৌকার চালক ও সহকারীদের জন্য ফায়ার সেফটি ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। শুধুমাত্র চালক ও সহকারীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনলে হবে না, নৌকার বাবুর্চিদের সবার আগের অগ্নি নির্বাপণের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কারণ, দুর্ঘটনার সময় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, তা তারা জানেন না, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ব্যাপারে নৌকার মালিকদের এগিয়ে আসা উচিত। তারা এই প্রশিক্ষণের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহযোগিতা নিতে পারে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৫ সদস্য আটক
কুড়িগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে কু‌ড়িগ্রাম থেকে রংপুরগামী একটি মিনি বাসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের কলেজমোড়সহ একাধিক জায়গায় নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের পোস্টার সাঁটানো হয়। খবর পেয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নামে থানা ও ডিবি পুলিশ। পরে বিকেলে খলিলগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে রংপুরগামী একটি মিনিবাসের গতিরোধ করে ভেতরে থাকা সন্দেহভাজন পাঁচ তরুণকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন- জাবের আল রাফিয়ান (৩০), সাকিবুল হাসান (২৪), শামীম হোসেন (২৫), ফাহমিদ হাসান (৩৪) এবং মাহমুদুর রহমান (২৫)। তাদের বাড়ি যশোর, ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, নাটোর ও মাদারীপুরে। আরও পড়ুন সৈকতে দাঁড়িয়ে বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানালেন পর্যটকরা পুলিশ জানায়, পোস্টার সাঁটানোর স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আটক তরুণদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে এসে হিযবুত তাহরীরের প্রচারণামূলক পোস্টার সাঁটাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি সন্ধ্যায় আটকের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দায় স্বীকার করেছে। আটকদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আরটিভি/এমএ
নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৫ সদস্য আটক
সৈকতে দাঁড়িয়ে বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানালেন পর্যটকরা
পশ্চিমে হেলে পড়েছে লাল সূর্য। সাগরের বালুচরে বসানো চেয়ারে (কিটকট) সেই সূর্যের অপরূপ রূপ উদাস দৃষ্টিতে দেখছেন কেউ। কেউ আবার বালুচরে দাঁড়িয়ে সূর্যকে পেছনে রেখে ছবি তোলায় ব্যস্ত। আজ বছরের শেষ দিনের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটকের সমাগম হয়েছে সাগরকন্যা কুয়াকাটায়।  লাল-কমলা আভায় রাঙানো আকাশ ও সাগরের মিলন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত ছিলেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল থেকেই সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট, লেম্বুর বন ও আশপাশের এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন আশানুরূপ পর্যটক না হলেও হতাশ নয় তারা। যশোর থেকে আসা একজন পর্যটক বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুয়াকাটায় এসেছি থার্টি ফার্স্ট নাইট উপভোগের জন্য। সূর্যোদয় কুয়াশার কারণে দেখতে না পেলেও সূর্যাস্ত একদম স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি। কুয়াকাটা আসা সার্থক হয়েছে। আরও পড়ুন ইউপি সদস্য কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার কুমিল্লা থেকে আসা একজন পর্যটক বলেন, প্রতি বছর থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন নগরীগুলোতে গিয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করে থাকি, তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর কুয়াকাটায় আসলাম এবং বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপভোগ করলাম। তবে ভালো লাগতো আজ রাতে নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে উৎসব করতে পারলে কিন্তু সেটি করার সুযোগ নেই। কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। এদিকে পর্যটকদের আগমনে ব্যস্ত সময় পার করছে হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। হোটেল মালিকরা জানান, অধিকাংশ আবাসিক হোটেল গুলো ৫০ শতাংশের বেশি বুকিং হয়ে যায়। খাবারের দোকান, হস্তশিল্প ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরাও ভালো বিক্রির আশা করছেন। তবে শতভাগ পর্যটক না হওয়ার কথাও জানান অনেক ব্যবসায়ী। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কুয়াকাটায় আশানুরূপ পর্যটক থাকবে। তবে আশানুরূপ পর্যটক না হলেও ৬০ শতাংশ পর্যটক রয়েছে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পুরান বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রতি বছরই পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নামে। কিন্তু এবছরের চিত্র কিছুটা ভিন্ন, এর কারণ হতে পারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে কিছু পর্যটক কম হয়েছে। তবে সামনের দিকে আশা করছি কুয়াকাটায় আরও বেশি পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়বে। এ বিষয়ে টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সৈকতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, লাইফগার্ড টিম প্রস্তুত রয়েছে। তাছাড়াও সাদা পোশাকেও একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। সর্বোপরি কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি। আরটিভি/এমএ
সৈকতে দাঁড়িয়ে বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানালেন পর্যটকরা
ইউপি সদস্য কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিস্ফোরক মামলায় মহাদান ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের সেঙ্গুয়া বাজার এলাকায় নিজ দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মহাদান গ্রামের শওকত আলী চাঁন মুন্সির ছেলে মাহবুবুর রহমান ওই ইউনিয়নের কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং  ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে গত ২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ৩/৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৯/৩২৩/১১৪ ধারায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়েরকৃত ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় । ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরও পড়ুন ১৭০ টাকা হারানোর জেরে ভাতিজিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বাচ্চু মিয়া গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নাশকতার মামলার একজন সন্দিগ্ধ আসামি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে  আদালতে পাঠানো হবে। আরটিভি/এমএ
ইউপি সদস্য কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার
১৭০ টাকা হারানোর জেরে ভাতিজিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ১৭০ টাকা হারানোর জেরে ভাতিজী লামিয়া আক্তারকে (১৪) শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চাচা জাকির হোসেন খানকে বিরুদ্ধে।  মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার আওরাবুনিয়া গ্রামের এ ঘটনা ঘটেছে।  আরও পড়ুন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান মারা গেছেন নিহত লামিয়া আক্তার অভিযুক্তের বড় ভাই ফারুক খানের সৎ মেয়ে এবং উত্তর চরাইল হাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনার পরে এলাকাবাসী অভিযুক্ত জাকির হোসেন খানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, পকেট থেকে ১৭০ টাকা খোয়া যাওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে লামিয়ার মা লিলি বেগমকে মারধর শুরু করে অভিযুক্ত চাচা জাকির। বিষয়টি দেখতে পেয়ে লামিয়া মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও শাবল দিয়ে এলোপাথিারি পেটায়। এতে মা-মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে পরলে স্বজনরা তাদেরকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে রাতেই চিকিৎসকরা লামিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। মা লিলি বেগম বর্তমানে তিনি শেবাচিমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের মোহাম্মদ রায়হান জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাকির কে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/এফএ
১৭০ টাকা হারানোর জেরে ভাতিজিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান মারা গেছেন
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান।  মাহমুদুল হাসান এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাজধানীতে নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ জোহর টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান। তিনি রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।  রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১২ সালের উপ-নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আরটিভি/এফএ
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান মারা গেছেন
আরও পড়ুন
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুড়ল অর্ধশতাধিক ঘর
টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন
সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে ভয়াবহ আগুন, কী ঘটেছিল 
সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে আগুনে নিহত ১, জীবিত উদ্ধার ১৫