ইলেকট্রিক মেকানিককে নির্যাতন করে হত্যা

গাজীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ , ০৬:২৯ পিএম


ইলেকট্রিক মেকানিককে নির্যাতন করে হত্যা
ছবি: আরটিভি

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর কাশিমপুর রোডে একটি পোশাক কারখানায় ইলেকট্রিক মেকানিককে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করায় ঘটনাটি দেরিতে প্রকাশ পায়। ঘটনার পর থেকে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিহত ইলেকট্রিক মেকানিক  হৃদয় হোসেন (১৯) টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার শুকতারবাইদ এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি কোনাবাড়ীর হারিনাবাড়ী এসরারনগর হাউজিং এলাকায় মিরাজের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে স্থানীয় গ্রিনল্যান্ড ফ্যাক্টরিতে ডাইং সেকশনের ইলেকট্রিক মেকানিক হিসেবে অস্থায়ীভাবে কাজ করতেন। 

গ্রেপ্তার হাসান মাহমুদ মিঠুন টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার হাদিরা বাজার এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন কুদ্দুস নগর এলাকায় আয়নালের বাড়ির ভাড়াটিয়া। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৮ জুন) সকালে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গ্রিনল্যান্ড গার্মেন্টসের মেকানিক সেকশন ও নিরাপত্তাকর্মীরা হৃদয়ের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে দুপুরের দিকে হৃদয় মারা যায়। ঘটনার খবর আশপাশের অন্যান্য গার্মেন্টসে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে প্রায় কয়েশশ’ শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসে এবং গ্রিনল্যান্ড গার্মেন্টসের সামনে গিয়ে কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হৃদয় হত্যার বিচার দাবি করেন। এ সময়ে তারা কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হত্যাকাণ্ডের পর কর্তৃপক্ষ গার্মেন্টসের মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ সাঁটিয়ে পালিয়ে যায়।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে (২৮ জুন শনিবার) কিছু লোক হৃদয়কে দড়ি দিয়ে হাত পিঠমোরা করে বেঁধে কারখানার ভিতরে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছে। পরে ওই কক্ষে তার ওপর অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয়। শনিবার সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে কারখানা ভেতরে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃত অবস্থায় হৃদয়কে নিয়ে ১০টা ২১ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্স কারখানা ত্যাগ করে। হৃদয় মারা যাওয়ার পর তার শরীরের একাধিক ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। তাতে তার শরীরে হাঁটুতে, কোমরে, পিঠে, হাতের কব্জিতে, কনুইতে এবং হাতের নখে, গলায় এবং মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত ও কালচে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।  

এ ঘটনায় নিহতের ভাই লিটন বাদী হয়ে কোনাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে  জানিয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে খবর আসে একজন চোর ফ্যাক্টরির দেয়াল টপকে ভিতরে আসার সময় ড্রেনে পরে আহত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল থেকে জানান, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। 

স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা শুনার পর কারখানায় অভিযান চালিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ এবং হত্যায় ব্যবহৃত অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা নিশ্চিত হই এটি হত্যাকাণ্ড।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার পরে কারখানার ভিতরে হৃদয়কে নির্যাতন করার ফুটেজ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতেই হৃদয় মারা যায়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শনিবারে সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে হৃদয়ের লাশ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে কারখানার সবাই পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ঘটনা জানতে পেরে বিক্ষোভ করে।

আরটিভি/এফএ -টি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission