জনবল সংকটে নিজেই ‘অসুস্থ’ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ০৯:০৪ পিএম


জনবল সংকটে নিজেই ‘অসুস্থ’  কুষ্টিয়ার কুমারখালী  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ছবি : আরটিভি

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। চরম জনবল সংকটে যেন নিজেই অসুস্থ এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এক্সরে মেশিন বিকল হওয়ার ঘটনা। 

বিজ্ঞাপন

সরজমিনে কুমারখালী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সক্সের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, একজন স্বাস্থ্য সহকারী রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখছেন। এমন চিত্র হাসপাতালের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সব বয়সী রোগীই এখন স্বাস্থ্য সহকারীদের ওপর নির্ভরশীল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

আরও পড়ুন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ৪০০ এর অধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে এত সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

১৯৮৫ সালে স্থাপিত হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি বহুদিন ধরে বিকল হয়ে আছে। পূর্বে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন রোগীকে সেবা দেয়া হতো। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মেশিনটি নষ্ট হওয়ার পর থেকে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নিম্ন আয়ের রোগীরা এখন বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্সরে করাতে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী কুমারখালী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেৱক্সে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞসহ ২২ জন চিকিৎসক থাকার কথা। বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৯ জন, এর মধ্যে ৪ জন অনুমোদিত ছুটিতে। হাসপাতালে আছেন একজন দন্ত চিকিৎসক, তিনজন কনসালট্যান্ট (গাইনী, শিশু ও এনেস্থেশিয়া) এবং ৪ জন মেডিকেল অফিসার। ফলে রোগীদের সেবা দিতে দেখা দিয়েছে মারাত্মক সংকট। হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর উভয় বিভাগেই চিকিৎসা সেবার সংকট প্রকট। আবাসিক রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেকেই ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, লোকবল সংকটের কারণে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্য সহকারীরাই রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আইনি জটিলতার কারণে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গত এক বছর কোনো লোকবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণেই সেবা ব্যহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এই সংকট কাটবে।

আরটিভি/এফএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission