দালালের খপ্পরে পড়ে চার তরুণী সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমায় ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে। সেখানে আসাম পুলিশের হাতে আটক হয় তারা। পরে তাদেরকে কুড়িগ্রামের সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির হাতে হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী (বিএসএফ)।
ওই চার নারী হলেন- পাবনা সদর থানার মালিগাছা গ্রামের আব্দুল আউয়াল মিয়ার মেয়ের আখি খাতুন (২০), ব্রাহ্মনবাড়িয়ার মিরপুর থানার বাঞ্চারামপুর গ্রামের হাবিব মিয়ার মেয়ে আদিবা আকতার (২৩), নেত্রকোনার দূর্গাপুর থানার বাওয়ই পাড়ার নাছির উদ্দিনের মেয়ে শিরিনা আকতার (২৬), শরিয়তপুরের নড়িয়া থানার লুংসিং গ্রামের হিরু সরদারের মেয়ে তাসমিয়া আকতার (১৮)। চার নারী ঢাকার বাড্ডা থানার নুতুন বাজার এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাদের তিনজন একটি বিউটি পার্লারে এবং একজন গার্মেন্সে কাজ করত।
আখি আকতার জানান, তাদের পূর্বপরিচিত জান্নাত নামের এক নারীর প্রলোভনে তারা কাউকে কিছু না জানিয়ে ২২ নভেম্বর সিলেটের জাফলং সীমান্ত পার হয়। সীমান্তের ওপারে তাদের জন্য একটি প্রাইভেট কার অপেক্ষা করছিলো। সেই কারে উঠে তারা আসামের রাজধানী গুয়াহাটি পৌঁছান। ২৩ নভেম্বর পুলিশ তাদের আটক করে।
আখি আরও জানান, আমরা উন্নত জীবন আর ভালো কাজের লোভে পড়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলাম। পরে ২৬ নভেম্বর বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার পূর্বকেদার সীমান্তের মেইন পিলার ১০১৫ এর সাব পিলার ১৪ এস এর কাজে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কেদার কোম্পানি সরের হাবিলদার শাহজাহান আলী এবং বিএসএফের পক্ষে নেত্রিত্ব দেন রুস্তম ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর ধিরেন্দ্র কুমার।
কুড়িগ্রাম ২২ ব্যাটালিয়ন এর কেদার কোম্পানির হাবিলদার শাহজাহান আলী জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে চার তরুণীকে বিজিবির জিম্মায় নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় তাদেরকে কচাকাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়েছে। চার তরুণীকে তাদের অভিভাবকদের কাছে দেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএ




