উত্তরের শস্য ভাণ্ডার খ্যাত নওগাঁয় এ মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চিকন জাতের ধান উৎপাদন হয়েছে মোটা জাতের ধানের তুলনায় তুলনামুলকভাবে বেশি। হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে শুধু শঙ্কা ধানের দাম নিয়ে। গতবারের তুলনায় এবারে বিঘা প্রতি ৩-৪ মণ ধান বেশি পেয়েও ধানের দাম নয়ে শঙ্কা কাটছে না কৃষকের।
নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলায় এ বছরে প্রায় ১ লাখ ১৯৩ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধান রোপণ করেছেন কৃষক। যার ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫.১ টন পার হেক্টর। যার চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩.৪ টন পার হেক্টর। এ বছরে চাষিরা আমন ফসলে ধানের ৪৯ জাত। স্বর্ণা-৫ জাত, ৯০ জাত ও সুগন্ধি চিনিগুড়া জাতের ধান উৎপাদন করেছেন।
জেলার ১১টি উপজেলার উঁচু জমিতে ধান রোপণ করেছেন চাষিরা। অগ্রহায়ণের শুরু থেকেই চাষিরা তাদের ফসল ঘরে তোলা শুরু করেছে। জেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে ধান কেটে ঘরে তুলেছে চাষিরা। বাকি ফসলগুলো মাঠে দুলছে। পর্যায়ক্রমে এই ধান কেটে ঘরে তুলছেন চাষিরা।

তারা জানান, বিগত বছরগুলোতে বিঘা প্রতি তারা ১৪-১৬ মণ হারে ধান ঘরে তুলতেন। এ বছর তা বেড়ে ১৮-২০ মণ হারে ধান পাচ্ছেন। এর ফলে উৎপাদন বেড়েছে ফুটেছে কৃষকের মুখে হাসি। প্রথমদিকে পোকার আক্রমণ থাকলেও সঠিক পরিচর্যা ও কীটনাশক এর ব্যবহারের ফলে তা দমন করা সম্ভব হয়েছে।
তারা জানিয়েছেন, বাজারে ধানের দাম বেশ থাকলে তারা এই মৌসুমে লাভের মুখ দেখবেন। আর বাজার যদি কম থাকে তবে ফসল উৎপাদনের ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলবেন। এদিকে এই মৌসুমে ধান কেটে দৈনিক পারিশ্রমিকে খুশি দিনমজুর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোছা. হোমায়রা মণ্ডল জানিয়েছেন, এই মৌসুমে থেমে থেমে বৃষ্টি থাকায় চাষিরা ধান উৎপাদনে বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন। মোটা জাতের তুলনায় চিকন ধানের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় ধানের উৎপাদন বেড়েছে। প্রথম থেকেই কৃষি-কর্মকর্তাদের পরামর্শ ক্রমে রাসায়নিকের ব্যবহার সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করায় পোকা দমন হয়েছে। ফলে ধানের উৎপাদনও বেড়েছে।
আরটিভি/এএএ




