স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব, প্রতিবেশীর সঙ্গে যে কাণ্ড ঘটালেন স্বামী

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৪০ এএম


স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব, প্রতিবেশীর সঙ্গে যে কাণ্ড ঘটালেন স্বামী
স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব, প্রতিবেশীর সঙ্গে যে কাণ্ড ঘটালেন স্বামী। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

প্রায় ১৯ মাস আগে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন সুমন হোসেন (৩৯) নামে এক ব্যক্তি। তবে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কয়শা গ্রামের একটি ডোবার পানি সেচে ও মাটি খুঁড়ে তার কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে আত্রাই উপজেলার কয়শা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে সুমন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর আত্রাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। 

পরবর্তী সময়ে পরিবারের লোকজন বাড়ির পাশে ইটের টুকরায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ ইটে লেগে থাকা রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করে তা সুমনের রক্ত বলে শনাক্ত করে। এরপর সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে গত ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার দুই মাস পরও মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে পারছিল না পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

তবে সপ্তাহখানেক আগে নিখোঁজ সুমনের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নতুন কিছু তথ্য দিলে মামলাটি নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। পুলিশের তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। 

তার স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং হাত ধরে টানাটানি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের ২২ জুন রাত ১২টার দিকে সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের সহযোগিতায় গ্রামের নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। 

বিজ্ঞাপন

পরে দুই ভাই মিলে মরদেহ গুম করতে পাশের শুকনো একটি ডোবায় মাটিচাপা দেন। তার ওই ভাই কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেন।

আরও পড়ুন

তিনি আরও জানান, শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার আসামির দেখানো পয়সা গ্রামের রমজানের পুকুরের পানির ডোবা সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ সুমনের হাড়গোড়সহ বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করে। 

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, হত্যার পর খুনি সুমনের মুঠোফোন নিজের কাছে রেখেছিলেন। এটি নেয়ার পর সেটি বন্ধ করে রেখেছিলেন। এর মধ্যে সেই মুঠোফোনটা চালু করে ব্যবহার করা শুরু করেন। এটার সূত্র ধরে খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এসব হাড়গোড় নওগাঁর আত্রাই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে, যা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে ঢাকায়।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission