নওগাঁয় ৫০০ মণ ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতি ও চালক-হেলপারকে অপহরণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে নওগাঁ জেলা পুলিশ ও ডিবির সমন্বিত অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য। অভিযানে ডাকাতি হওয়া ট্রাকের কাগজপত্রসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর থেকে ৫০০ মণ ধান নিয়ে নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা দেয় একটি ট্রাক। ২৩ জানুয়ারি গভীর রাতে নওগাঁ সদর থানার পাইকপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতরা ফিল্মি কায়দায় ট্রাকটির গতিরোধ করে চালক মারুফ ও হেলপার শামীমকে নৃশংসভাবে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ধানসহ ট্রাকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি জানার পরপরই নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশকে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। শুরু হয় ‘অপারেশন ৪৮ ঘণ্টা’। রুদ্ধশ্বাস অভিযান তদন্তের প্রথম ধাপে বগুড়ার মোকামতলা থেকে আরিফুল ইসলাম আরিফ নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে ডিবি। তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসে পুরো চক্রের মানচিত্র।
পরে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে ডাকাত গোলাপ ও লাভলুকে। তাদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ডাকাত সর্দার সামিউল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আত্মগোপন করে আছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে লুণ্ঠিত ট্রাকের মূল কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। যদিও সর্দার সামিউল কৌশলে পালিয়ে যান। এরপর পুলিশ ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে আরও তিন ডাকাত— রাকিব হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও সাজিদুল ইসলাম সবুজকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তাররা একটি পেশাদার আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকে ডাকাতি করে আসছিলেন। মামলার মূল আসামি ও বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। দ্রুততম সময়ে এই সাফল্য নওগাঁ জেলা পুলিশের সক্ষমতা ও জননিরাপত্তার প্রতি দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।
আরটিভি/এমএইচজে/




