নড়াইল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে পৌঁছেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপ এবং খলিল গ্রুপের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ থেকে ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের নড়াইল জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহীনি মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মিয়ার সমর্থকদের সাথে স্থানীয় খলিল শেখের সমর্থকদের দীর্ঘ দিন ধরে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বড়কুলা গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের ৩ জন প্রাণ হারান। অন্য দিকে প্রতিপক্ষের আরও ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
সংঘর্ষে নিহত ৫ জন হলেন: খলিল শেখ (৬০) বড়কুলা গ্রামের বাসিন্দা ও খলিল গ্রুপের প্রধান, তাহাজ্জত শেখ (৩০) খলিল শেখের ছেলে, ফেরদৌস (৩৫) খলিল গ্রুপের সমর্থক, ওসিবুর রহমান (৪০), সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের সমর্থক, মুন্না (২৮) খায়ের গ্রুপের সমর্থক।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওসিবুর ও মুন্নাকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন সিকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বর্তমানে গ্রামটিতে পুরুষশূন্য অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে বড়কুলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরটিভি/এমআই





