রাউজানে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কাছে প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম), আরটিভি নিউজ  

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৯:৫৭ পিএম


রাউজানে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কাছে প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
নিহত যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কাছে প্রকাশ্যে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে।

নিহত ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)। তিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন। দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। 

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, আবদুল মজিদ যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া, বিয়ের ঘটক হিসেবেও কাজ করতেন তিনি।

নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, ‌ইফতার শেষ করে বাসা থেকে বের হন আবদুল মজিদ। অলিমিয়াহাট বাজারে একটি দোকানে বসে ছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পর গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। এর আগেও আমার স্বামীর ওপর হামলা করা হয়েছিল। এবার তাকে গুলি করে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাউজান থেকে নির্বাচিত বিএনপির এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে আমার ভাইয়ের ওপর দুবার হামলা করা হয়েছিল। সেসময় তিনি বেঁচে যান। এবার আর বাঁচতে দেয়নি তারা।

উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বেলাল বলেন, দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করার পর আমার ওপরও হামলা করতে চেয়েছিল। ভাগ্যক্রমে আমি পালিয়ে রক্ষা পেয়েছি। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক টিপলু কান্তি দে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়েছে। শরীরে তিনটি গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়। বাকিটা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।

এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি একই বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামের আরেক যুবদল নেতাকে একই কায়দায় মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার দেড় মাস পার হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১৫টি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট। এ সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission