ভোলায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ভাঙনের আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৩৭ পিএম


ভোলায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ভাঙনের আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ
ছবি: আরটিভি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার তেতুলিয়া নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ড্রেজার বসিয়ে প্রতিদিন তারা বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের বাবুরহাট সংলগ্ন তেতুলিয়া নদীতে রাত-দিন ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। নদীর মাঝখান থেকে পাইপের মাধ্যমে বালু তুলে ট্রলার ও বালুবাহী বাল্কহেডে করে বাবুরহাট লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে জমা করা হয়। পরে সেখান থেকে এসব বালু উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, অন্তত সাত থেকে আটটি বড় ড্রেজার ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত। তারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ড্রেজারচালক জানান, প্রতিটি ড্রেজার জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। এই চাঁদা দিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

বাবুরহাট লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান জুলফিকার বলেন, নদী শাসনের জন্য ফেলা বড় বড় ব্লকগুলো ড্রেজারের কারণে ধীরে ধীরে নদীর গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

মৎস্য আড়তদার হাসান মুন্সি বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন তীব্র হলে নজরুলনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর সহকারী প্রকৌশলী আহসান হাসান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি শুনেছি। দ্রুত বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই সেখানে অভিযান চালানো হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission