বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার শাহনূর আলম শান্ত (৫৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি তাকে শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের সামনে মব সৃষ্টির পর তাকে আটক করে মারধরে পুলিশে দেওয়া হয়। এর আগেও বগুড়া কারাগারে থাকা পাঁচ আওয়ামী লীগ মারা গেছেন।
এ কারাগারে থাকা অবস্থায় মৃত নেতারা হলেন- গাবতলীর দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ওরফে ভুট্টু (৫২), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মতিন মিঠু (৬৫), জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনু (৫৭), শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ (৬৭) ও বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন (৫৮)।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবীন গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বগুড়া সদরের একটি বিস্ফোরক মামলায় গত ৪ জানুয়ারি শাহনুর আলম শান্তকে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়, পরে ১৭ জানুয়ারি বগুড়া থেকে তাকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কেরানীগঞ্জ জেলের ডেপুটি জেলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
কেরানীগঞ্জ কারাগারের ডেপুটি জেলার তায়েবা গণমাধ্যমকে বলেন, শাহনুর আলম শান্ত অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এর আগেও দুবার অসুস্থ হলে তখনও হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর গ্রামের রজব আলী বলেন, শাহনুর আলম শান্ত একজন পঙ্গু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করার অপরাধে তাকে ৪ জানুয়ারি শহরের নারুলি এলাকা থেকে কতিপয় যুবক মব করে আটক করে মারধর করে। পরে তার স্ত্রীর কাছে চাঁদা চান। দিতে না পারায় পুলিশে সোপর্দ করেন। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকার পরও পুলিশ একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।
তিনি বলেন, কারা-কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও সুচিকিৎসার অভাবে তার এই অকাল মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
মিথ্যা বানোয়াট মামলায় শান্তকে কারাগারে পাঠানো দাবি করে তিনি আরও বলেন, চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়াই বগুড়া শহরের নারুলী এলাকা থেকে ‘মব সন্ত্রাস’ করে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ওপেল এ বিষয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করার দাবি করে গণমাধ্যমকে বলেন, একের পর এক জেলখানায় যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা না।
আরটিভি/এমএইচজে





