নারীদের সঙ্গে পর্ন ভিডিও তৈরি করতেন হাতিয়ার ইউএনও!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ১১:৩৫ পিএম


নারীদের সঙ্গে পর্ন ভিডিও তৈরি করতেন হাতিয়ার ইউএনও!
ছবি: সংগৃহীত

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাঠপর্যায়ে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি একটি উপজেলার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউএনও (বর্তমানে ওএসডি) মো. আলাউদ্দিনের একাধিক অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে জানা গেছে তিনি নারীদের নিয়ে পর্ণ ভিডিও বানাতেন।

বিজ্ঞাপন

সাগরপাড়ের দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার এই ঘটনার প্রভাব মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জেও পৌঁছেছে। কারণ, মো. আলাউদ্দিন এর আগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও শাল্লা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে হাতিয়ার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে দাবি করেছেন। তিনি নোয়াখালীর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, পূর্বের কর্মস্থলের কিছু বিরোধের জেরে কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে নিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি প্রতিহত করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সুনামগঞ্জে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার রাতেই তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদকের হাতে আসা তথ্যমতে, ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য ৯ থেকে ১৮ মিনিট পর্যন্ত। এসব ভিডিও ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকের মতে, তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষ।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নোয়াখালীর পাশাপাশি সুনামগঞ্জেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, তিনি ২০২২ সালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালে শাল্লা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রূঢ় আচরণের অভিযোগও সামনে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল দাস অভিযোগ করে বলেন, আলাউদ্দিন সাহেব এসিল্যান্ড থাকাকালে প্রভাব খাটিয়ে কোনো মাপজোক ছাড়াই আমার রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর নির্মিত ওয়ার্কশপ তিনবার ভেঙে দেন। এতে আমার প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরে মাপজোকে দেখা যায়, সেখানে সরকারি জমি ছিল না।

আরও একটি ঘটনায় জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই উপজেলার উদগল হাওরে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ চলাকালে জুতায় কাদা লাগাকে কেন্দ্র করে জুয়েল মিয়া নামে এক ট্রলি চালককে মারধর করা হয়। এতে তার ডান কাঁধ ভেঙে যায়। জুয়েল মিয়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মনোরঞ্জন দাস নামে আরেক শ্রমিকও আহত হন।

শাল্লা উপজেলার হাসিমিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র মো. ফারুক মিয়া অভিযোগ করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে তিনি সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতেন। ছোট দোকানদারদের ওপর অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করতেন। মাদ্রাসার দেয়াল ভাঙতে বাধা দেওয়ায় আমাকে ও এক শিক্ষককে হুমকি দেন।

আরও পড়ুন

হাতিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, সোমবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইউএনও মো. আলাউদ্দিন কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তিনি কারও ফোন রিসিভ করছেন না। যাওয়ার আগে তিনি অফিসের কাউকে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মো. আলাউদ্দিন সোমবার সকালে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission