ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নারীদের সঙ্গে পর্ন ভিডিও তৈরি করতেন হাতিয়ার ইউএনও!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাঠপর্যায়ে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি একটি উপজেলার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউএনও (বর্তমানে ওএসডি) মো. আলাউদ্দিনের একাধিক অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে জানা গেছে তিনি নারীদের নিয়ে পর্ণ ভিডিও বানাতেন।

সাগরপাড়ের দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার এই ঘটনার প্রভাব মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জেও পৌঁছেছে। কারণ, মো. আলাউদ্দিন এর আগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও শাল্লা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে হাতিয়ার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে দাবি করেছেন। তিনি নোয়াখালীর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, পূর্বের কর্মস্থলের কিছু বিরোধের জেরে কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে নিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি প্রতিহত করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন।

এদিকে সুনামগঞ্জে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার রাতেই তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদকের হাতে আসা তথ্যমতে, ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য ৯ থেকে ১৮ মিনিট পর্যন্ত। এসব ভিডিও ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকের মতে, তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষ।

এ ঘটনায় নোয়াখালীর পাশাপাশি সুনামগঞ্জেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, তিনি ২০২২ সালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালে শাল্লা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রূঢ় আচরণের অভিযোগও সামনে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন।

শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল দাস অভিযোগ করে বলেন, আলাউদ্দিন সাহেব এসিল্যান্ড থাকাকালে প্রভাব খাটিয়ে কোনো মাপজোক ছাড়াই আমার রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর নির্মিত ওয়ার্কশপ তিনবার ভেঙে দেন। এতে আমার প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরে মাপজোকে দেখা যায়, সেখানে সরকারি জমি ছিল না।

আরও একটি ঘটনায় জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই উপজেলার উদগল হাওরে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ চলাকালে জুতায় কাদা লাগাকে কেন্দ্র করে জুয়েল মিয়া নামে এক ট্রলি চালককে মারধর করা হয়। এতে তার ডান কাঁধ ভেঙে যায়। জুয়েল মিয়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মনোরঞ্জন দাস নামে আরেক শ্রমিকও আহত হন।

শাল্লা উপজেলার হাসিমিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র মো. ফারুক মিয়া অভিযোগ করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে তিনি সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতেন। ছোট দোকানদারদের ওপর অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করতেন। মাদ্রাসার দেয়াল ভাঙতে বাধা দেওয়ায় আমাকে ও এক শিক্ষককে হুমকি দেন।

আরও পড়ুন

হাতিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, সোমবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইউএনও মো. আলাউদ্দিন কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তিনি কারও ফোন রিসিভ করছেন না। যাওয়ার আগে তিনি অফিসের কাউকে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মো. আলাউদ্দিন সোমবার সকালে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
৫০ বছরের দুর্ভোগের অবসান, সাঁকোর বদলে কাঠের সেতুতে বদলে যাচ্ছে তিন গ্রামের চিত্র
আড়াই কেজির বেশি ওজনের রুপালি ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার ৪৫০ টাকায়
এক ট্রলারে ধরা পড়ল ৬০ মণ ইলিশ
হাতিয়ায় একসঙ্গে ১৫ শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়ার কারণ জানাল প্রশাসন