ত্রিভুজ প্রেমের জেরে বন্ধুকে খুন, ২৪ দিন পর ভুট্টাক্ষেতে মিলল কঙ্কাল

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:১৩ পিএম


ত্রিভুজ প্রেমের জেরে বন্ধুকে খুন, ২৪ দিন পর ভুট্টাক্ষেতে মিলল কঙ্কাল
প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নিখোঁজের ২৪ দিন পর আবির হাসান (১৭) নামে এক কিশোরের গলিত কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিংপুর ইউনিয়নের ডুবি গ্রামের হংডাইল হাওরে শাহাবুদ্দিনের ভুট্টাক্ষেতে কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে আবীরের বাবার শনাক্ত মতে হাড়গোড় উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া গ্রামের মাহমুদুল হাসান রিয়ান (২০) ও তার স্ত্রী কেয়া আক্তার (১৮)।

বিজ্ঞাপন

নিহত আবির হাসান সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া উত্তর পাড়ার সিদ্দিক মিয়ার ছেলে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে টিকটক প্রেম ও ত্রিভুজ প্রেমের জেরে বন্ধুকে হত্যার লোমহর্ষক কাহিনি।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মার্চ বিকেলে উপজেলার সিংপুর ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হন আবির হাসান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে তার বাবা মো. সিদ্দিক মিয়া নিকলী থানায় গত ১৩ মার্চ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের দীর্ঘ সময় পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ আবিরের হাড়গোড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করে। মরদেহে কোনো মাংস অবশিষ্ট ছিল না, তবে কাপড় দেখে তার বাবা পরিচয় শনাক্ত করেন।

মামলা ও থানা সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে টিকটকের মাধ্যমে মাহমুদুলের সঙ্গে রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার আ. রশিদের মেয়ে কেয়া আক্তারের (১৮) পরিচয় হয়। পরে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কেয়াকে নাটোর থেকে নিকলীতে নিয়ে আসেন মাহমুদুল এবং ১৯ জানুয়ারি তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বন্ধু আবীর প্রায়ই মাহমুদুলের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। মাহমুদুলের স্ত্রীর সঙ্গে আবীরের সখ্যতা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন তৈরি হয়। মাহমুদুল ও আবীর একই গ্রামের বন্ধু হওয়ায় আবীরের সঙ্গে কেয়ার কথাবার্তা চলত। একপর্যায়ে আবীর ও কেয়ার মধ্যে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

গত ৮ মার্চ রাতে আবীর মাহমুদুলদের বাড়িতে গিয়ে কেয়া আক্তারের সঙ্গে একটি ছবি তুলে মাহমুদুলের মোবাইলে পাঠান। পরদিন ৯ মার্চ ভোরে মাহমুদুল চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। ওই দিন বিকেল থেকেই আবীর নিখোঁজ হন এবং তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আবীরের বাবা মো. সিদ্দিক মিয়া বাদী হয়ে মাহমুদুল ও কেয়া আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান রিয়ান ও তার স্ত্রী কেয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission